kalerkantho


ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের এক রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান

পরিণতি সম্পর্কে কতটা সজাগ ট্রাম্প?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরিণতি সম্পর্কে কতটা সজাগ ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে ওয়াশিংটনের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ ক্ষেত্রে এক রাষ্ট্র সমাধানই তাঁর বেশি পছন্দ।

অর্থাৎ নির্দ্বিধায় বলা যায়, দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের শুধুই মৃত্যুই হয়নি, তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত বুধবার ট্রাম্পের সাক্ষাতের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে ইসরায়েল দেখছে তাদের জয় হিসেবে, যা ফিলিস্তিনিদের বিব্রতকর ও অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতির আকস্মিক পরিবর্তন এটি। গত ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টই এই সংকটের এমন সমাধানের পথে কখনো এগোতে চাননি। ট্রাম্প তাঁর অজ্ঞতা বা অনভিজ্ঞতা যে কারণেই হোক এক রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলেছেন। তবে তিনি কাজটি কী করে করতে চান সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি। এই সমাধান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘চির শান্তি’ আনবে নাকি ফিলিস্তিনিরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বা তার চেয়েও বাজে অবস্থানে চলে যাবে তারও কোনো উল্লেখ নেই।

এর পরিণতি কী হতে পারে সে সম্পর্কেও সম্ভবত তাঁর কোনো ধারণা নেই। সিএনএন জানায়, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিনির্ধারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রথম বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বকে এই বার্তা দেওয়া যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় আর নেই। দুই দেশের সম্পর্ক এখন নতুন অধ্যায়ে পা দিয়েছে। এই পর্যায়ে তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চান তাঁরা। প্রথমত, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ব্যক্তি পর্যায়ে সম্পর্কোন্নয়ন, দ্বিতীয়ত ইরান প্রসঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং তৃতীয়ত শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রশ্নে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া।

দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নেতানিয়াহুর কখনোই পছন্দনীয় ছিল না। ট্রাম্পের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনিও জানালেন, এই পথে নয় বরং সমাধানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে।

অনেকের কাছেই এই সমাধানের মৃত্যু গত বুধবার নয় বরং আরো আগে হয়েছে। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক সিলমোহর। বুধবার সেটাই পড়ল। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিষয়টি আলোচনায় ছিল, তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো সমাধানের পথে এক ইঞ্চিও এগোনো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তত্ত্বকথা হিসেবেই থেকে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বুধবারের কথা শুনে মনে হতেই পারে, খুব শিগগির অকল্পনীয় এবং দারুণ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন তিনি। যতটা জানা যায়, নতুন এই পরিকল্পনা প্রস্তাব ইসরায়েলের বহুদিনের পুরনো একটি ধারণা থেকে এসেছে। তারা আরব রাষ্ট্রগুলোকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে চায়, যাতে করে ইসরায়েলকে তারা স্বীকৃতি দেবে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তাদের (ইসরায়েলের) নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতেও ফিলিস্তিনকে বাধ্য করবে।

কাজেই এ পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে ইসরায়েল ও সুন্নি আরবরা যা মেনে নেবে তা ইরান ও বাকি অস্ত্রধারী গ্রুপগুলোও মেনে নেবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা মিলে যাওয়া কাকতালীয় কিছু নয়। বরং তারা বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক। ফিলিস্তিনের কাছে বিষয়টি কেমন সে প্রসঙ্গ ভিন্ন।

শান্তি ইস্যুতে ২০০২ সালে একটি প্রস্তাব দেয় আরব রাষ্ট্রগুলো। যেখানে ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিরে যাওয়া এবং পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের রাজধানী প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গটিও আনা হয়। তবে প্রশ্ন হলো, এই ছাড় দিতে ইসরায়েল প্রস্তুত কি না। এসব প্রশ্নেই বহুদিন থেকে স্থবির হয়ে রয়েছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল আলোচনা।

এটা স্পষ্ট যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অসম্ভব। এর জন্য দুই পক্ষের দক্ষ ও দৃঢ় নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রয়োজন। তিনটির কোনোটিই এখন নেই। নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের বৈঠক ব্যর্থ। এখন সবার উচিত নেতানিয়াহু, ট্রাম্প এবং তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও জামাতা জারড কুশনারকে একটি সুযোগ দেওয়া। তাঁরা হয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল এমন একটি সংকট যেখানে সার্বভৌমত্ব থেকে শুরু করে ধর্ম বা রাজধানী নির্ধারণ বা পবিত্র স্থানগুলো প্রসঙ্গে কোথাও কোনো মিল নেই। এই সংকটগুলোর সমাধান না করেই কোনো সমাধানে পৌঁছানো অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ট্রাম্প কতটা পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য