kalerkantho


বিতাড়িত ভাইপোকে দায়িত্ব দিয়ে জেলে ঢুকলেন শশিকলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিতাড়িত ভাইপোকে দায়িত্ব দিয়ে জেলে ঢুকলেন শশিকলা

শেষ মুহূর্তেও ঘর গোছানোর কাজ চালালেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকের প্রধান শশিকলা নটরাজন। আদালতের কাছে আত্মসমর্পণের জন্য কিছুটা সময় চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত নিজের ভাইপোকে আবার দলে ফেরালেন এবং তাঁকে দলের দ্বিতীয় প্রধানের পদে বসালেন। এরপর বিশাল কনভয় নিয়ে চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরুর আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য রওনা দেন।

গতকাল বুধবার বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রাহারা জেল কমপ্লেক্সে সেশন জজের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শশিকলা, সুধারাকান ও ইলাবারাসি। এরপর আদালত তাঁদের পারাপ্পানা আগ্রাহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। এখানেই শশিকলা সাজার চার বছর কাটাবেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যখন তাঁর জেলে যাওয়া একেবারে নিশ্চিত হয়ে যায় তখন থেকেই ফের একপ্রস্থ ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেন শশিকলা। ই পালানিসামিকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন থেকে এবং পন্নিরসেলভমকে দল থেকে বহিষ্কার—একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠাণ্ডা মাথায়। সে পথেই আরো এক ধাপ এগিয়ে গতকাল তিনি তাঁর দুই ভাইপো টিটিভি দীনাকরণ ও এস ভেঙ্কটেশকে ফের দলে ফিরিয়েছেন। ২০১১ সালে দীনাকরণকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে দল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন জয়ললিতা। আর শশিকলা তাঁকে শুধু আনাই নয়, একেবারে দলের ২ নম্বর পদেও বসিয়েছেন।

তিনি এখন থেকে এআইএডিএমকের উপসাধারণ সম্পাদক। শশি নিজে যদিও সাধারণ সম্পাদকের পদেই রয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, জয়ললিতার মতো শশিকলাও জেলের ভেতর থেকে দল এবং সরকারের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চাইছেন। তাঁর নির্দেশেই যাতে তামিলনাড়ু চলে এবং সে পথে যাতে কোনো বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করতেই নিজের লোকদের উচ্চ পদে বসিয়ে দিয়েই জেলে গেছেন তিনি।

শশিকলা যুক্তি দেখিয়েছেন, দীনাকরণ তাঁর কাছে ব্যক্তিগত এবং লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তাঁকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে ঠিক একই অভিযোগে শশিকলাকেও দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন জয়া।

অন্যদিকে শশিকলা জেলে যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অপহরণের অভিযোগ করেছেন মাদুরাইয়ের বিধায়ক সর্বানন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে উভাতুর পুলিশ শশিকলা, পালানিসামিসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, অপরাধমূলক হুমকির মামলা দায়ের করেছে। সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য