kalerkantho


ফ্লিনের রাশিয়া সংযোগ

এবার তদন্ত চাইছে রিপাবলিকানরাও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এবার তদন্ত চাইছে রিপাবলিকানরাও

সদ্য পদত্যাগকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানতে এ নিয়ে বৃহত্তর তদন্তের দাবিতে সুর মেলালেন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সদস্যরাও। গত মাসে ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকেই এ দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা।

রাশিয়ার সঙ্গে ফ্লিনের যোগাযোগের বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই। প্রশাসনের এক মুখপাত্র গত মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই ফ্লিন রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয় গত মাসের শেষ ভাগে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওই আলোচনায় রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কথা বলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই গত সোমবার পতদ্যাগে বাধ্য হন ফ্লিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এ জাতীয় পদত্যাগের ঘটনা এটিই প্রথম।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সঙ্গে জড়িত অনেকেই প্রচার চলাকালে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের ফোনালাপের রেকর্ডও রয়েছে। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরও জড়িত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

বলা হচ্ছে, এই সংকটের সূচনা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ই। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তিনি রাশিয়ার ৩৭ জন কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেন। এটা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। ওই মাসের শেষ দিকে প্রেসিডেন্টকে ফ্লিনের রুশ-যোগাযোগের বিষয়টি অবহিত করা হয়। সে সময় ট্রাম্প নির্বাচিত হলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেননি।

ফ্লিনের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গ হয়েছে বলে মামলা হতে পারে। কারণ যে সময় তিনি রুশ কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলেন তখনো তিনি একজন সাধারণ নাগরিক, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তখনো নিয়োগ পাননি। ‘লোগান অ্যাক্ট’ অনুসারে বিষয়টি নিষিদ্ধ।

ফ্লিন শুরুর দিকে বিষয়টি স্বীকার করেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও কয়েক দফা প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে ওকালতি করেন। হোয়াইট হাউস গত মঙ্গলবার প্রথম স্বীকার করে, ফ্লিনের বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে ২৬ জানুয়ারিই অবহিত করা হয়। ট্রাম্প নিজেও শুরুর দিকে ফ্লিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।

ডেমোক্র্যাটরা গোড়া থেকেই বিষয়টির তদন্ত দাবি করে আসছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্কিফ বলেন, গণমাধ্যমের প্রচারের কারণেই জেনারেল ফ্লিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। স্কিফ গত মঙ্গলবার বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরেই মিথ্যা বলে চলেছেন ফ্লিন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলো। তাঁর অন্যায়ের বিষয়টি আমলেই নেননি ট্রাম্প। ’

এখন প্রায় একই সুরে কথা বলছেন রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন নেতাও। রিপাবলিকান দলের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ নেতা জন করনিন ফ্লিনের বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন। সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির সভাপতি রিপাবলিকান জন ম্যাককেইন বলেন, এখন জাতীয় নিরাপত্তা উপকরণগুলো যে ঠিকভাবে কাজ করছে না এরই প্রমাণ ফ্লিনের পদত্যাগ।

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।


মন্তব্য