kalerkantho


জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর

ট্রাম্পও ধীরেসুস্থের পক্ষে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তাড়াহুড়ার লক্ষণ নেই। বরং স্পর্শকাতর এ ইস্যুতে উত্তরসূরিদের মতো তিনিও ধীরগতিতে এগোনোর আভাস দিয়েছেন সম্প্রতি।

যদিও নির্বাচনী প্রচারণার সময় খুব দ্রুত দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা এসেছিল ট্রাম্পের তরফ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে দূতাবাস হস্তান্তরের মানে হলো, পরোক্ষভাবে শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দেওয়া। এই পদক্ষেপে পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাত দশক ধরে যে মতৈক্য আছে, তাও ভেঙে যাবে। কারণ, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জেরুজালেমকে ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনাই পুরোপুরি ভেস্তে যাবে।

১৯৯৫ সালে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস হয়, যেখানে তাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথা বলা আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টই সেটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেননি। কিন্তু ভোটের আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দূতাবাস স্থানান্তর করতে চান।

ট্রাম্পের এমন মনোভাব ছিল প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে।

এখন তিনি ধীরগতিতেই এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকি এখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপনকেও নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। গত সপ্তাহে ‘ইসরায়েল হায়ম’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘ইহুদি বসতি স্থাপন করলে শান্তি আলোচনার ক্ষতি হবে না—আমি এমনটা বিশ্বাস করি না। আর দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও সহজ কোনো বিষয় নয়। ’

বেশ কয়েকটি কারণে অবশ্য ট্রাম্পের মনোভাবে এই পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ উল্লেখ করে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এ ছাড়া ইরান ও ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইসরায়েল যে বলয় তৈরি করতে চায়, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে।   সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য