kalerkantho


পর্দার অন্তরালে হোয়াইট হাউসে হুলুস্থুল!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পর্দার অন্তরালে হোয়াইট হাউসে হুলুস্থুল!

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বৈঠক হয়। বৈঠকে তাঁরা পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রুডো হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট সফরকারী তৃতীয় বিদেশি নেতা। ছবি : এএফপি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ইস্টরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ মানসম্পন্নভাবে এবং কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই সম্মেলনটি শেষ হয়। তবে এই আয়োজন দেখে কেউ যদি মনে করেন, হোয়াইট হাউসের ভেতরেও সব কিছু এমন সুচারুভাবেই হচ্ছে, তাহলে ভুল করবেন। হোয়াইট হাউসের ভেতরে হুলুস্থুল অবস্থা চলছে!

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর সহকারীরা সব সময়ই চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন। ভেতরের কোনো কথা ফাঁস হলে তাঁদের চাকরি যেতে পারে, আবার বাইরে থেকেও কেউ কলকাঠি নাড়াচাড়া করে তাঁদের চাকরি খেতে পারে। প্রথম দিকে ট্রাম্পের প্রচারে অংশ নেওয়া সহকারীদের মধ্যে অনেকেই হতাশ হয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের ভেতরের কাজ না পাওয়ায়। পরে পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তাঁরা। কারণ তাঁদের যেসব বন্ধু ভেতরে কাজ করছেন তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে, চরম বিষাক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে।

তবে এর মধ্যেও বেশ ভালো অবস্থানে আছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইনস প্রেইবাস। অন্তত চাকরি নিয়ে কোনো আতঙ্কে ভুগতে হচ্ছে না তাঁকে। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত সোমবার তাঁর কাজের প্রশংসা করেন।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের মুখ্য কৌশল প্রণেতা স্টিভ ব্যানোনের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো। এর সঙ্গেই রয়েছে প্রেসিডেন্টকে সব সময় সঙ্গ দেওয়ার তাঁর বিশেষ যোগ্যতা। প্রেসিডেন্টের ক্লান্তিহীন ব্যস্ত কর্মসূচির প্রায় সব কটিতেই প্রেইবাসের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তবে সমালোচকরা মনে করেন, প্রেইবাসের উচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এত সময় নষ্ট না করে হোয়াইট হাউসের কাজগুলো আরো গুছিয়ে নেওয়া।

হোয়াইট হাউসের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আরো অনেক কারণ আছে। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের কাউন্সিলর কেলিয়ান কনওয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের ওপর প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এর এক ঘণ্টা পরই হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পেইসার এক বিবৃতিতে জানান, ফ্লিনের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ট্রাম্প। এর পরপরই ফ্লিনের পদত্যাগের খবর পাওয়া যায়।

ট্রাম্পের পছন্দের পাত্র হয়ে ওঠার আরেকটি সহজ পথ রয়েছে—তাঁর সুরে সুর মেলানো; সত্য বা মিথ্যা তিনি যাই বলেন না কেন। এ ব্যাপারে ভুয়া ভোটারদের বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়া যায়। ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণবিষয়ক উপদেষ্টা স্টেফেন মিলার গত রবিবারও বলেছেন, ‘ভুয়া ভোটাররা আমাদের দেশের একটি গুরুতর সমস্যা। ’ প্রেসিডেন্ট তাঁর এই উপদেষ্টাকে খুবই পছন্দ করেন। মিলারের এই অবস্থান বিশ্বকেও একটি বার্তা দেয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কারণ রবিবারের ওই অনুষ্ঠানের পরপরই এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘রবিবার সকালের নানা অনুষ্ঠানে আমাকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অভিনন্দন স্টেফেন মিলার। দারুণ কাজ করেছ তুমি!’

সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য