kalerkantho


ট্রাম্প চাইলেই সব করা সহজ নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্প চাইলেই সব করা সহজ নয়

নির্বাচনী প্রচারের সময় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের খোলনলচে পাল্টে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বাস্তবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর সরকার পরিচালনার ধরন এবং বিরোধী দলের ভূমিকায় তিনি একাধারে ঢাল-তলোয়ারহীন হয়ে পড়ছেন, বাড়ছে হতাশা।

এর কারণ ট্রাম্পের উদ্যোগ বা চেষ্টার অভাব নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২১ দিনে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তিনি। নীতিগত বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আরো অনেক বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত তাঁর ২৭ জানুয়ারি দেওয়া নির্বাহী আদেশ, যেখানে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তিনি। অতি আলোচিত-সমালোচিত এই আদেশ এরই মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থগিত হয়ে গেছে। ট্রাম্পের নেওয়া বাকি আদেশগুলোর পরিস্থিতিও খুব একটা সুবিধার নয়।

সীমান্ত দেয়াল : ‘আমি একটি দারুণ দেয়াল নির্মাণ করব। আমার চেয়ে ভালো দেয়াল আর কেউই নির্মাণ করতে পারবে না। খুব সস্তায় এ দেয়াল বানিয়ে ফেলব আমি।

’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি দারুণ দেয়াল নির্মাণ করব আমি। আর এর ব্যয় বহন করবে মেক্সিকো। ’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও ওই প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি ট্রাম্প। তাঁর দল কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরাও এ নিয়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে সবই আটকে যায়, কী করে এবং কখন—এ দুটি প্রশ্নের ওপর।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্স গেল সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ দেয়াল নির্মাণে ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি ডলার। মেক্সিকো শুরু থেকেই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। এমনকি মেক্সিকোর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ করারোপ করা হবে বলে ট্রাম্প হুমকি দিলেও তাতে মেক্সিকো সরকারের অবস্থানে হেরফের হয়নি।

ওবামাকেয়ার : সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এ স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিল আকাশ থেকে পড়েনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রে সাত বছর ধরেই বিলটি রয়েছে। ট্রাম্প সমালোচনা শুরুরও আগে থেকে তাঁর দলীয় সদস্যরা বিলটি নিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান। তবে এর কোনো বাস্তবভিত্তিক বিকল্প তাঁরা দিতে পারেননি। এর মধ্যেই ট্রাম্প এসে ওবামাকেয়ারের বেশ কিছু অংশ স্থগিত করে দেন। তবে স্থগিত অংশের বিকল্প হিসেবে কোন প্রক্রিয়া কার্যকর হবে সে প্রসঙ্গেও তাঁর কোনো নির্দেশনা নেই। এ নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প জনগণকে প্রতি অঙ্গরাজ্যের বিধান অনুসারে স্বাস্থ্য বীমা কেনার পরামর্শ দেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। ২০১৮ সালের আগে এ নিয়ে খুব বেশি কিছু করার সম্ভাবনা নেই।

বৈদেশিক ইস্যু : শপথ নেওয়ার আগ দিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া, চীন, জাপান, মেক্সিকোসহ অন্য সব দেশের সঙ্গে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পর্ক অনেক ভালো হবে। তারা আমাদের সম্মান করবে। ’ তিনি মূলত ওবামা প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে প্রায়ই বলতেন, এ প্রশাসনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বহির্বিশ্বে সম্মান হারাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হলে এই ক্ষত পুষিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তবে শপথের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা করলে নেতিবাচক অবস্থাই দেখা যায়।

এক জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করে, তাদের প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশের লোকেরা যথাযথ সম্মান করে না।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আদালতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব : ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিককে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করেন। বিষয়টি আদালতে গড়ায়। স্থগিতাদেশ আসে।

তবে এসব ধাক্কায় ট্রাম্পের একগুঁয়ে স্বভাবে পরিবর্তন এসেছে এমনটিও নয়। পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, একক সিদ্ধান্তে চলেন ট্রাম্প। তবে তাঁকে বুঝতে হবে পারিবারিক ব্যবসা এবং প্রেসিডেন্সি—দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রেসিডেন্টের শাসন অন্য হিসাবে চলে। হোয়াইট হাউসের এই নতুন বাসিন্দার সবে তিন সপ্তাহ পুরেছে, চার বছর মেয়াদের প্রায় পুরোটাই বাকি। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসন করা শিখতে হবে তাঁকে। সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য