kalerkantho


ট্রাম্পভীতিতে নতুন ভাগ্যের সন্ধানে কানাডায় ওরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পভীতিতে নতুন ভাগ্যের সন্ধানে কানাডায় ওরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন একটা ভীতির নাম, যাঁর কারণে দুই বছরের শিশুও পরিস্থিতির শিকার হয়ে আধো আধো বুলিতে মরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কানাডা যাওয়ার পথে রক্ত জমানো ঠাণ্ডায় শিশুটি আর কিছুতেই হাঁটতে পারছিল না।

পথের নিদারুণ যন্ত্রণায় মৃত্যুটাই তার কাছে কাম্য হয়ে উঠেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময়ই তীব্র অভিবাসীবিরোধী অবস্থান জানান দিয়েছিলেন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প। নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার বসার পরপরই তিনি অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। আর এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে প্রত্যাখ্যাত মানুষজন কানাডার দিকে ছুটতে শুরু করে। প্রথম ধাক্কায়ই যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কানাডায় ঢোকে, তাদের মধ্যে ছিল দুই বছরের ওই শিশুটি। আশ্রয়প্রার্থীদের এ স্রোত এখনো অব্যাহত আছে। ট্রাম্পের হুমকির চেয়ে ঠাণ্ডার মরণকামড় সহ্য করে কানাডার পথে রওনা হওয়াটাই তাদের কাছে শ্রেয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত মাসেই কানাডা পৌঁছেছেন জিবুতির ৩০ বছর বয়সী নাগরিক সামাতার আদাম। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেও কেন তিনি সে দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেননি, এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের অভিষেকের পরপরই তিনি কানাডার পথে রওনা হয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপজ্জনক পথে আশ্রয়প্রার্থীদের কানাডায় যাওয়ার কারণটা আরো স্পষ্ট হয় সোমালিয়ার নাগরিক ফারহান আহমেদের বর্ণনায়। ২০১৪ সালে তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছান, তখন তাঁর আশ্রয়ের আবেদনসংক্রান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটক রাখা হয়েছিল। শুনানিতে তিনি জানিয়েছিলেন, সোমালিয়ায় তাঁর নিজ শহরে চোখের সামনে তিনি বাবা ও বড় ছেলেকে বিরোধী দলের লোকজনের হাতে খুন হতে দেখেছেন। পরের দফায় নিজেও হয়তো প্রাণ খোয়াবেন, সেই ভয়ে ৯টি দেশ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছেন ফারহান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুনানি শেষে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়। যত দিন পর্যন্ত তাঁকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ট্রাক চালানোর অনুমতি মেলে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর আর দেরি করার সাহস দেখাননি ফারহান। এখন তিনি কানাডায় এবং আশ্রয়ের আবেদন এরই মধ্যে করেছেন। কিন্তু পথটা কত কষ্টকর ছিল, সেই বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রেও তুষার পড়তে দেখেছি। তবে এ রকম নয়। ’ এখন তিনি তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশে আছেন। আরো তিনজনের সঙ্গে একটি কক্ষে থাকছেন তিনি। অস্থায়ী হোক, তাঁর মাথার ওপর ছাদ তো আছেই, সেই সঙ্গে তিনি খাবার আর কম্বলও পেয়েছেন। এখন তিনি তাঁর আশ্রয় আবেদনের শুনানির অপেক্ষায় আছেন। ফারহান বলেন, ‘কানাডায় আশ্রয় পাওয়ার জন্য আমি ভাগ্যের ওপর নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ সোমালিয়ায় ফেরত গেলে নিশ্চিত আমাকে মরতে হতো। ’

কানাডীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, গত সপ্তাহজুড়েই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখানে এসেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়বে, এমন প্রস্তুতিই নিচ্ছেন তাঁরা। কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার (বিএসএ) হিসাব মতে, প্রতিবছরই কানাডার উদ্দেশে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩২১ জনের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আর গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ৪০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য