kalerkantho


উত্তর প্রদেশে ভোট শুরু মোদির অগ্নিপরীক্ষা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উত্তর প্রদেশে ভোট শুরু মোদির অগ্নিপরীক্ষা

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসছেন একজন ভোটার। গতকাল মুজাফফরনগর থেকে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ভারতের উত্তর প্রদেশে শনিবার বিধানসভার ভোটযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই রাজ্যের ভোট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। নোট বাতিল পদক্ষেপে ভারতীয়রা যে বিপুল ভোগান্তির শিকার হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই ভোটে তাঁর হালনাগাদ জনপ্রিয়তার যাচাই হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তাঁর মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করেছেন।

সাতটি ধাপে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১১ মার্চ ফল প্রকাশিত হবে। প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে ১৫টি জেলার ৭৩টি আসনে। প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩৯। ভোটদাতা দুই কোটি ছয় লাখ। এখানকার কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে নয়ডা। এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ছেলে পঙ্কজ সিং।

লালুপ্রসাদ যাদবের জামাই, সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী রাহুল যাদব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিকান্দাবাদ আসনে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যাদবের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। মথুরা আসনে লড়ছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শ্রীকান্ত শর্মা। গতকাল শনিবার ভোট চলাকালে বুথের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢোকার অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক সংগীত সোমের ভাই গগনকে আটক করে পুলিশ। গগন ফরিদপুরের একটি বুথে গিয়েছিলেন। সঙ্গে পিস্তল থাকায় পুলিশ তাঁকে আটক করে।

গতকাল ভোট হওয়া ৭৩টি আসনের মধ্যে ২০১২ সালর বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১১টিতে জিতেছিল বিজেপি। বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) আর সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ২৪টি করে আসন পায়। রাষ্ট্রীয় লোকদল ৯টি আর কংগ্রেস পায় পাঁচটি। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটের অঙ্ক ঘুরে যায় বিজেপির দিকে। বিএসপি আর কংগ্রেসকে ধূলিসাৎ করে উত্তর প্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৭১টিতেই জয়ী হয় বিজেপি। এসপি পাঁচটি আর কংগ্রেস মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। বাকি দুটিতে জিতেছিল আপনা দল।

কিন্তু এবার মোদির নোট বাতিলকাণ্ডে ২০১৪ সালের সেই ছবিটা ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনীতিবিদরা। এর ওপর মোদিকে ধরাশায়ী করতে জোট করে একসঙ্গে লড়ছেন রাহুল-অখিলেশ। প্রাক-নির্বাচনী প্রচারে মোদি অবশ্য বিরোধীদের সেই তীরের মুখ ঘোরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। মোদির সেই চেষ্টা কতটা সফল হয়েছে, তিনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন কি না তা জানা যাবে ১১ মার্চ। ওই দিন উত্তর প্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল বেরোবে।

২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে মোদি হাওয়ায় বিপুল জয় এলেও এর পরের বিধানসভা ভোটগুলোর ফল কিন্তু বিজেপির পক্ষে অস্বস্তিকর হয়েছে। দিল্লিতে গোহারা দশা, বিহারেও নীতীশ-লালু-কংগ্রেস জোটের কাছে হার। সেদিক থেকে দেখলে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল, বিশেষত উত্তর প্রদেশের ফল মোদির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ফেল করলে আরো বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে। সেটা শুধু বিরোধীদের দিক থেকেই নয়, সংঘ পরিবারের মধ্যে থেকেও অস্বস্তি বাড়তে পারে মোদির জন্য। সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য