kalerkantho


লিবিয়ায় জাতিসংঘের দূত

সালাম ফায়াদের মনোনয়ন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সালাম ফায়াদের মনোনয়ন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

সালাম ফায়াদ

লিবিয়ায় জাতিসংঘের দূত হিসেবে ফিলিস্তিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদের মনোনয়ন আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদের বাকি সব সদস্যই ফায়াদের মনোনয়নের পক্ষে ছিল।

কিন্তু জাতিসংঘের বিরুদ্ধে ‘ফিলিস্তিনপ্রীতি’র অভিযোগ এনে বিপক্ষে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা আছে। একই দিনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক হবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে। এ দুই বৈঠকের আগ মুহূর্তে ফায়াদের নিয়োগ আটকে দিল ওয়াশিংটন।

৬৪ বছর বয়সী ফায়াদ ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের একাধিক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, প্রায় সবার কাছে ফায়াদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন অর্থনীতির উন্নতি করা ও প্রশাসনকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার কারণে অনেকেই তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। এ অবস্থায় লিবিয়ায় জাতিসংঘের দূত হিসেবে তাঁর নিয়োগ আটকে দেওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।

আল-জাজিরার নিউ ইয়র্ক প্রতিবেদক রসিল্যান্ড জর্দান বলেন, ‘জাতিসংঘের অনেক রাষ্ট্রদূতের কাছে সালাম ফায়াদ একজন পছন্দের মানুষ।

এ কারণে জাতিসংঘের দূত হিসেবে তাঁর মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা ভেবেছিলেন সবাই। ’

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, তিনি ফায়াদকে লিবিয়ায় দূত হিসেবে মনোনয়ন দিতে চান। বিষয়টি বিবেচনার জন্য পরিষদকে শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেন তিনি। কিন্তু শুক্রবারই এর বিরোধিতা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় ভেটো ক্ষমতা দিয়ে যেকোনো প্রস্তাব আটকে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

বিরোধিতার কারণ হিসেবে হ্যালে বলেন, ‘লিবিয়ার মতো সহিংসতাপূর্ণ একটি দেশে ফায়াদের মনোনয়নে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়েছে। ’ তিনি জাতিসংঘের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। আর এটি তারা করছে ইসরায়েলের ক্ষতি করার জন্য। এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল আর মৌখিকভাবেই প্রতিবাদ করবে না, কাজেকর্মেও এর বিরোধিতা করবে। ’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩৭ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নেই।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য