kalerkantho


সুর বদলে ‘এক চীন নীতি’তে সমর্থন জানালেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সুর বদলে ‘এক চীন নীতি’তে সমর্থন জানালেন ট্রাম্প

‘এক চীন নীতি’ নিয়ে নিজের অবস্থান পাল্টালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এই নীতিকে সমর্থন জানাতে রাজি হয়েছেন তিনি।

যদিও এত দিন এই নীতি না মানার ইঙ্গিত দিয়ে ওয়াশিংটন-পেইচিং সম্পর্ককে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এ অবস্থান পাল্টানোর মধ্য দিয়ে চীন ইস্যুতে প্রথাগত নীতিতেই ফিরে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে। তাদের এই কূটনৈতিক অবস্থান ‘এক চীন নীতি’ হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে এই নীতিতে সমর্থন জানিয়ে আসছে। এ কারণে ১৯৭৯ সালের পর থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু চিনপিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের ফোনালাপের আগ পর্যন্তও ওই নীতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফোনালাপের সময় চিনপিং এক চীন নীতিতে সমর্থন জানাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

’ হোয়াইট হাউস আরো জানায়, দুই নেতা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। একে অন্যকে নিজেদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একমত হয়েছেন পরবর্তী আলোচনার বিষয়েও।

এদিকে এক চীন নীতিতে সমর্থন জানানোয় ট্রাম্পের প্রশংসা করেছে পেইচিং। চিনপিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। যৌথ চেষ্টার মধ্য দিয়ে আমরা এই সম্পর্ককে একটা ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব। ’

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত একাধিকবার এক চীন নীতির সমালোচনা করেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বরেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কেন এক চীন নীতি মেনে চলে, আমি বুঝি না। ’ এই নীতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এ-ও বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে চীন ছাড় না দিলে এই নীতি মানার কোনো মানে নেই। ’

এখন দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মাথায় এসে সুর বদলানোর বিষয়টিকে একেক বিশ্লেষক একেকভাবে ব্যাখ্যা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির অধ্যাপক এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিশ্লেষক অ্যাশলে টাউনশেন্ড মনে করেন, নিজের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ট্রাম্প নিজের অবস্থান বদলেছেন।

টাউনশেন্ড বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে আপস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং বিষয়টিকে এভাবে দেখা যেতে পারে যে ট্রাম্প প্রশাসন বিরোধী শক্তির প্রতি কট্টর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এক চীন নীতিতে সমর্থন জানালেও আমি মনে করি, ভবিষ্যতে আরো অনেক বিষয়েই ট্রাম্প চীনকে আক্রমণ করবেন। কারণ তাঁর প্রশাসনে এমন অনেক উপদেষ্টাই আছেন, যাঁরা কট্টর চীনবিদ্বেষী। ’

তবে অনেকেই বলছেন, শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন চীন ইস্যুতে পূর্বসূরিদের পথেই হাঁটবে। চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর আমেরিকান স্টাডিজ’-এর পরিচালক উ শিনবো বলেন, এর আগে এক চীন নীতি নিয়ে ট্রাম্প যখন মন্তব্য করেছিলেন, সেগুলো ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। কারণ তিনি তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি যা বলছেন, যা করছেন, সবই প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, এই অবস্থান পাল্টানোর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিলেন, চীন ইস্যুতে তিনি প্রথাগত মার্কিন নীতিতেই ফিরে গেলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারের ফোনালাপের আগের দিনই শি চিনপিংয়ের কাছে তিন পৃষ্ঠার দীর্ঘ চিঠি পাঠান ট্রাম্প। সেখানে তিনি চীনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ ছাড়া চীনের জনগণকে ‘লুনার নিউ ইয়ার’-এর শুভেচ্ছাও জানান তিনি। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য