kalerkantho


গাড়িচাপা দেওয়ার শাস্তি

হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আক্রান্তের অস্ত্রোপচার দেখতে হবে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আক্রান্তের অস্ত্রোপচার দেখতে হবে!

বেপরোয়া গাড়ি চালালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের কিভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলা, সিগন্যাল ভাঙা, গতিসীমা ভেঙে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধে ভারতের সংসদীয় কমিটি এ ধরনের শাস্তিরই সুপারিশ করছে।

কমিটির মতে, এ আইন করা হলে বেপরোয়া গাড়িচালকদের বোধগম্য হবে যে নিয়ম ভাঙার পরিণাম কী হতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে এবং পরিবহনসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন ঢেলে সাজাতে মোটর ভেহিক্যালস আইনে সংশোধন করতে চাইছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই বিলে শাস্তি-জরিমানার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙার অপরাধে জনসেবার নিদান দেওয়া রয়েছে, যেমনটা চালু রয়েছে অন্যান্য দেশে। অনেক দেশেই নিয়ম ভাঙলে যেকোনো ধরনের জনসেবায় কাজ করতে পাঠানো হয়। ওই বিল খতিয়ে দেখেই সংসদীয় কমিটি ভারতে কী ধরনের জনসেবা করতে হবে, তার সুপারিশ করে।

কমিটির সুপারিশ হচ্ছে, মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে চালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা না হলেও মানুষ হত্যার সমান দণ্ডনীয় শাস্তির ব্যবস্থা হোক। মদ্যপান করে কেউ গাড়ি চালাচ্ছে কি না, তা বুঝতে বর্তমানে নিঃশ্বাস বা রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সংসদীয় কমিটির মতে, রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থায় অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। কারণ মদ্যপান করে গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়ার অনেক পরে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

ফলে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা কমে যায়। নিঃশ্বাস পরীক্ষার যন্ত্রও উন্নত মানের নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্র কেনার সুপারিশ করেছে কমিটি।

সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু ঘটনায় গাড়িচালকদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা খুনোখুনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। টোল প্লাজার কর্মীদের সঙ্গে বচসায় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা রুখতে কমিটির সুপারিশ, পৌরসভা এলাকা বা শহর এলাকায় গাড়িতে বন্দুক রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হোক। কারণ এ এলাকাতেই যানজট বেশি হয়।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, ভারতের পরিকাঠামো অনুযায়ী গতিসম্পন্ন গাড়ি তৈরি নিশ্চিত করতে আইন আনুক সরকার।

এ বিলটি নিয়ে অনেক রাজ্যের সঙ্গেই কেন্দ্রের মতভেদ ছিল। রিপোর্টে আরো বলা হয়, গাড়ির ডিলাররা ক্রেতাদের থেকে লজিস্টিকস বা হ্যান্ডলিং চার্জের নামে বেশি টাকা নেয়, বিলে কম টাকা লেখে, বিমার প্রিমিয়ামে বেশি টাকা নেওয়ার মতো নানা ধরনের বেআইনি কাজ করে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য