kalerkantho


তামিলনাড়ুর ক্ষমতা দখলের লড়াই

নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন পন্নিরসেলভম শশিকলার বিধায়করা হোটেলবন্দি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন পন্নিরসেলভম শশিকলার বিধায়করা হোটেলবন্দি

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লড়াইটা ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে শশিকলা নটরাজনের জন্য। কারণ শুধু বিদ্রোহ নয়, তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব রুখতে আপ্রাণ লড়াইয়ে নেমেছেন তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী পন্নিরসেলভম।

কয়েক দিন আগেই শশিকলাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ করে দিতে পদটি থেকে ইস্তফা দিলেও পন্নিরসেলভম এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সব রকম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। গতকাল রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে এস জর্জকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাওয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সূত্র জানিয়েছে, চলতি ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারকে রিপোর্ট পাঠানোর আগে সময় নিয়ে চলার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যপাল।

ওদিকে এআইএডিএমকে দলের সাধারণ সম্পাদক শশিকলারও গতকাল সন্ধ্যায় রাজভবনে রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর রাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। সূত্র মতে, তিনি রাজ্যপালকে অনুরোধ জানাবেন যাতে তাঁকে সরকার গড়তে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা হয়। এ লক্ষ্যে শশিকলার শিবির দলের ১৩৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৩১ জনকে কয়েকটি দলে ভাগ করে বিভিন্ন হোটেলে এবং রিসোর্টে বন্দি করে রেখেছে। পন্নিরসেলভম শিবির যাতে কিছুতেই এই বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, এর জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও করে ফেলেছেন শশিকলা। বিধায়কদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যপাল শশিকলাকে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর পরই এসব বিধায়ক হোটেল-রিসোর্ট থেকে বের হবেন—এমনই পরিকল্পনা শশিকলা শিবিরের।

অবশ্য এ নিয়ে পন্নিরসেলভম উদ্বেগ প্রকাশ করতে চান না। তিনি বলেছেন, যাঁদের হোটেলে-রিসোর্টে রাখা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিধানসভায় আস্থা ভোট হলে এই বিধায়করা নিজেদের বিবেকের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট দেবেন।

গতকাল রাজভবনে বিদ্যাসাগর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন পন্নিরসেলভম। ২০ মিনিটের বৈঠকের পর তিনি রাজভবন ছাড়েন। সাংবাদিকদের পন্নিরসেলভম জানান, ‘রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাজ্যপালকে অবহিত করলাম। আমি নিশ্চিত ধর্মের জয় হবে। ’ সূত্র জানিয়েছে, চলতি ইস্যুতে কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠানোর আগে সময় নিয়ে চলতে চান রাজ্যপাল রাও।

গতকাল পন্নিরসেলভম শশিকলাকে আক্রমণ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আম্মা (প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা) তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর তিনি ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন আম্মাকে। লিখেছিলেন, তিনি কোনো দিনও পরিবারের দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না এবং রাজনীতিতে জড়াবেন না। কিন্তু এখন তিনি সব ভুলে গেছেন। ’

শুধু রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছেন না পন্নিরসেলভম। নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজানোও শুরু করেছেন তিনি। গতকাল চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে এস জর্জকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার, পিটিআই।


মন্তব্য