kalerkantho


চীনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি

সম্পর্কের বরফ গলালেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সম্পর্কের বরফ গলালেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি চিনপিং

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

এ ছাড়া চীনের জনগণকে ‘লুনার নিউ ইয়ার’-এর শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে এই চিঠি দেওয়ার আগ পর্যন্তও চীনের বিরুদ্ধে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রশ্ন তুলেছেন ‘এক চীন নীতি’ নিয়ে। বাণিজ্যনীতি থেকে শুরু করে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে পেইচিংয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে টেলিফোনে কথা বলেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে। এ অবস্থায় এসে চীনের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ জানিয়ে চিনপিংকে চিঠি দিলেন তিনি। তিন পৃষ্ঠার দীর্ঘ ওই চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে ‘এমন একটা গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে উভয় পক্ষ লাভবান হবে। ’ ট্রাম্প তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন শি চিনপিংকেও। এ ছাড়া চীনের জনগণকে ‘হ্যাপি লুনার ইয়ার’ জানিয়েছেন তিনি। আগামীকাল শনিবার চীনের এই নববর্ষ উৎসব শেষ হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে ট্রাম্পের। কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এখনো কথা বলেননি তিনি। উল্টো নানাভাবে সমালোচনা করেছেন। গত ডিসেম্বরেও শপথগ্রহণের আগে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ‘এক চীন নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কেন এই নীতি মেনে চলে, আমি বুঝি না। ’ এই নীতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এও বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে চীন ছাড় না দিলে এই নীতি মানার কোনো মানে নেই। ’

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে। তাদের এই মনোভাবের প্রতি কয়েক দশক ধরে সম্মান দেখিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। মূলত এই সমর্থন কিংবা সম্মান প্রদর্শনই ‘এক চীন নীতি’ হিসেবে পরিচিত। এই নীতির ফলে ১৯৭৯ সালের পর থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু নির্বাচনে জিতেই ‘এক চীন নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কয়েক দশকের রীতি ভেঙে তিনি কথা বলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ইং-ওয়েনের সঙ্গে।

এ ছাড়া ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরই তাঁর প্রশাসন জানায়, চীন যেন দক্ষিণ চীন সাগরে দখলদারি চালাতে না পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প কিংবা তাঁর প্রশাসনের এসব আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে খুব সতর্কতার সঙ্গে জবাব দিয়েছে চীন। বেশির ভাগ সমই ‘উদ্বেগ’ প্রকাশের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য