kalerkantho


শশিকলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পন্নিরসেলভমের

তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নাটকীয় মোড়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নাটকীয় মোড়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নাটকীয় মোড় নিয়েছে। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশিকলা নটরাজনকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ করে দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার রাতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পন্নিরসেলভম দাবি করে বসেছেন তাঁকে জোর করে সরানো হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, দলের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে থাকলে তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আস্থাভোটের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে রাজ্যের প্রকৃত প্রধান হিসেবে প্রমাণ করবেন। পাশাপাশি জয়ললিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে শশিকলাও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। গতকাল চেন্নাইয়ের পোয়েস গার্ডেনে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শশিকলা। দলের ১৩৪ জন বিধায়কের মধ্যে পন্নিরসেলভমসহ তিনজন বাদে ১৩১ জনই সেখানে হাজির ছিলেন। গতকাল রাতেই তাঁদের নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য দিল্লির পথে রওনা হওয়ার কথা ছিল শশিকলার। এর আগে দলীয় বৈঠকে দলের কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে পন্নিরসেলভমকে অপসারণ করেন শশিকলা।

মঙ্গলবার রাতে চেন্নাইয়ের মেরিনা সৈকতে জয়ললিতার স্মৃতিসৌধে যান পন্নিরসেলভম।

সেখানে জনতা ও সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি জানান, ‘আম্মা (জয়ললিতা)’ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন। এখন তাঁকে জোর করে সরানো হচ্ছে। আম্মার মৃত্যুর পরে শশিকলা শিবিরও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হতে অনুরোধ করেছিল। অথচ তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই শশিকলার বাড়িতে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে তাঁকে সরতে বলা হয়। প্রশ্ন তুললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে পন্নিরসেলভম রাজ্যের অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন।

পন্নিরসেলভমের এই বিদ্রোহের পরপরই এআইএডিএমকে দলের নেতা-বিধায়কদের শশিকলার বাড়িতে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে পন্নিরসেলভমকে দলের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারিত করা হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের পন্নিরসেলভম বলেন, আম্মার নির্দেশেই তিনি ১০ বছর দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই কারো নির্দেশে তিনি পদ ছাড়বেন না। তা ছাড়া নেতাকর্মীরা চাইলে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেওয়া তাঁর ইস্তফাও ফিরিয়ে নিতে তিনি রাজি।

জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন পন্নিরসেলভম। হাসপাতালে তাঁকে এক দিনও জয়ললিতার কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি বলে শশিকলার দিকে আঙুল তোলেন তিনি। বলেন, ‘আম্মার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। সেই কমিটি হাইকোর্টে তার রিপোর্ট পেশ করবে। রিপোর্টটি জনসমক্ষেও তুলে ধরা হবে। ’

এদিকে আজ শশিকলার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলে বিদ্রোহের ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বিকল্প নাম নিয়ে জল্পনা চলছে দিল্লিতেও। গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য