kalerkantho


শুনানিতে আদালতের প্রশ্ন

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কি মুসলিমবিরোধী?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কি মুসলিমবিরোধী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল। এ সপ্তাহের শেষ দিকে আপিল আদালত এ বিষয়ে শুনানি শেষ করে রায় দিতে পারেন। একই সঙ্গে এই প্যানেল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

গত শুক্রবার সিয়াটলের একজন ফেডারেল বিচারক ওয়াশিংটন ও মিনেসোটা এ দুই অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের অনুরোধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

গত মঙ্গলবার তিন বিচারকের এ প্যানেল টেলিফোনে শুনানির আয়োজন করে। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত এ শুনানি প্রত্যক্ষ করে এক লাখ ৩০ হাজার দর্শক। এটি একটি রেকর্ড। একই সঙ্গে টেলিভিশনেও এটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

শুনানিতে বিচারক রিচার্ড ক্লিফটন জানতে চান, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশ্বের ১৫ শতাংশ মুসলমান পড়ছে, তাহলে এই আদেশ কেন বৈষম্যমূলক হবে না? প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী অগাস্ট ফ্লেনতেজ বলেন, ‘দেশে কে ঢুকতে পারবে, কে পারবে না, তা নির্ধারণ করার অধিকার প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস দিয়েছে।

’ এই সাতটি দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি—এ বিষয়ে আদালত প্রমাণ চাইলে আইনজীবী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একদল সোমালীয় নাগরিকের সঙ্গে উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠন আল-শাবাবের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ’

শুনানির এ পর্যায়ে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল নোহ পুরসেল আদালতকে বলেন, নির্বাহী আদেশের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং এ নিষেধাজ্ঞার কারণে রাষ্ট্রের হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পড়াশোনার জন্য অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারছে না। এমনকি অনেকে এখানে থাকা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারছে না। ’

শুনানির শেষ দিকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য কি না, তার ওপর আলোচনা হয়। বলা হয়, যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে তা হবে অসাংবিধানিক।

পুরসেল প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা রুডি জুলিয়ানির বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি (রুডি) বলেছিলেন, তাঁকে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার আইনি পথ খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য