kalerkantho


বিশ্ব কি হাঁটছে অন্যদিকে?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ওয়াশিংটনে বিরোধীদের এক হাত নিয়েছেন ট্রাম্প, তুলাধোনা করেছেন মিডিয়াকে। জার্মানির ট্রাম্প সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণে আনন্দ পেয়েছেন।

বিশ্ব কি তবে অন্যদিকে হাঁটছে—এই প্রশ্ন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক ফল্কার ভাগনারের।

‘আমাদের পরিচিত বিংশ শতাব্দীর সেই জগত্টা আর নেই’ এ কথা জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের, যিনি শিগগিরই জার্মানির প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। তাই কথাগুলো যে তিনি কোনো রকম চিন্তা না করে মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন, সেটা বোধ হয় বলা যায় না। তবে মজার ব্যাপার হলো, স্টাইনমায়ারের সঙ্গে একেবারে একমত ফ্রান্সের চরম দক্ষিণপন্থী নেত্রী, ন্যাশনাল ফ্রন্টের মারিন ল্য পেন।

ভুলে গেলে চলবে না, পেন কিন্তু সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ল্য পেনের কথায়, ‘এই মুহূর্তে আমরা একটা চেনা পৃথিবীকে শেষ হয়ে যেতে দেখছি আর প্রত্যক্ষ করছি নতুন একটি বিশ্বের জন্মকে। ’

স্টাইনমায়ার এবং ল্য পেনের এই কথা চমকে যাওয়ার মতো। ব্রেক্সিট আজ এক চরম সত্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একের পর এক দেশের চরমপন্থী সরকার এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, ইইউর মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে, যা খাপ খায় না।

ইউরোপের রাজনীতি যেন পাল্টে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ডে আজ ‘পপুলিজমের’ জয়জয়কার। ফ্রান্সের পাশাপাশি আগামীতে জার্মানিতেও নির্বাচন। তাই অন্যান্য দেশের মতো এখানেও যে উগ্রপন্থা উঁকি দেবে না, তার কি কোনো ‘গ্যারান্টি’ আছে? কারণ ইতিমধ্যেই যে অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে ঢুকেছে ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ দল এএফডি।

‘কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা’

শুধু ব্রেক্সিট বা ইইউব্যাপী চরমপন্থার বিকাশ হচ্ছে হয়তো, তবে বিশ্ব রাজনীতির মোড়টাই ঘুরে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প উঠে আসায়। ভবিষ্যতে মার্কিনিদের ভূমিকা কী হতে চলেছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা এখন বিশ্বের অনেক দেশেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার হাতে এক রকম ছেড়ে দিয়েছে আমেরিকা। বরং এখন তাদের দৃষ্টি ইসরায়েলের দিকে। আর তাই তো তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস উঠে গিয়ে বসতে চলেছে জেরুজালেমে।

তার ওপর ইউরোপে ট্রাম্পের বন্ধুর অভাব নেই। ল্য পেন, এএফডির ফ্রাউকে পেট্রি অথবা নেদারল্যান্ডসে উগ্র ডানপন্থী চিন্তার নায়ক গেয়ার্ট ভিল্ডার্স— এরা সবাই ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসিকে সমর্থন করেছে। আর সেটা তারা করেছে ইউরোপে জাতীয়তাবাদের উত্থানের ইচ্ছা থেকেই।

অথচ এই ইউরোপকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অনেক কিছু শিখতে হয়েছিল। জোট বাঁধার গুরুত্ব, গণতন্ত্রের বিকাশ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এসব কি তাহলে আর এই নতুন পৃথিবীর জন্য প্রযোজ্য নয়? তা নাহলে কিভাবে সম্ভব হলো ব্রেক্সিট অথবা ট্রাম্পের বিজয়?

প্রতিবাদই একমাত্র পথ

তাহলে কি আর আশা নেই? বেঁচে নেই কোনো স্বপ্ন? আছে, ওয়াশিংটনকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী ‘ওইমেন মার্চ’-ই তার উদাহরণ। অন্যায়-অবিচার-আঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মুক্তির পথ এগিয়ে যাওয়াই এখন একমাত্র পথ। গণতন্ত্রের মন্ত্রে, সমানাধিকারে এখনো যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁদের যে এ ছাড়া কোনো পথ নেই।

সূত্র : ডয়চে ভেলে


মন্তব্য