kalerkantho


মাল্টায় ইইউ নেতাদের সম্মেলন

লিবিয়া উপকূল নিশ্ছিদ্র করাসহ একাধিক প্রস্তাব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লিবিয়া উপকূল নিশ্ছিদ্র করাসহ একাধিক প্রস্তাব

উত্তর আফ্রিকা বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোয় শরণার্থীদের যাত্রা বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়ে মাল্টার রাজধানী ভ্যালেটায় গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলন। লিবীয় উপকূলরক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানবপাচারকারীদের প্রতিরোধের পরিকল্পনাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। সম্মেলনে শরণার্থীদের উত্তর আফ্রিকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পাঠানোসহ ব্রেক্সিট এবং শরণার্থী প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নেতারা।

ট্রাম্পের সমালোচনা করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। বহু দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়ে তাদের ভবিষ্যৎ চিন্তার ক্ষেত্রে ইইউকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

শরণার্থীদের আফ্রিকার আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তারা জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের অর্থ হচ্ছে শিশু ও নারীদের আশ্রয় কেন্দ্রের অমানবিক পরিবেশে ঠেলে দেওয়া। যেখানে তাদের শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এবারের সম্মেলন দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮ নেতাই অংশ নিচ্ছেন। এ পর্বে শরণার্থী সমস্যা এবং লোকজনকে লিবিয়া থেকে বিপজ্জনক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার বিষয়ে সতর্ক করার ব্যাপারে আলোচনা হবে।

দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার ইইউর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘লিবিয়া থেকে ইউরোপে শরণার্থীর প্রবাহ কমিয়ে আনাটাই হচ্ছে মাল্টা শীর্ষ সম্মেলনে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মরুভূমি ও সমুদ্রে অকালে প্রাণ হারানো থেকে রক্ষার এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ। ’

প্রতিবছরই বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছায়। নৌকা বা ছোট্ট জাহাজে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যায়। গত বৃহস্পতিবার ইতালির উপকূলরক্ষীরা কয়েক শ শরণার্থী উদ্ধার করেছে। গত বছর এমন এক লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ইতালিতে পৌঁছেছে। এ সময় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন করে মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে। মানবপাচারকারীরা অর্থের লোভে তাদের অমানবিকভাবে বিপদসংকুল পথে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ শরণার্থী নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইউরোপের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয় তা নিয়ে বেশ কিছু বিবৃতি দিয়েছেন যা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আসলে কী চান তা কেউ জানে না। বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়ে ইইউকে ঘিরেই তাদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে থাকে। ’

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান কার্ন বলেন, ‘সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা কঠিন এক সমস্যা। ইসলামবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হওয়া উচিত এবং তাদের আমাদের প্রতিপক্ষ বানানো উচিত নয়। ’

এদিকে লিবিয়া থেকে শরণার্থী আসা বন্ধ করতে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়ার ইইউ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে মানবাধিকার দলগুলো।  মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এর অর্থ হচ্ছে শিশু ও নারীদের আশ্রয় কেন্দ্রের অমানবিক পরিবেশে ঠেলে দেওয়া। যেখানে জোর করে পরিশ্রমের, শারীরিক নির্যাতনের ও ধর্ষণের শিকার হবে তারা। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর অর্থ হবে তাদের অনিশ্চয়তার জীবনে ঠেলে দেওয়া। ব্রিটেনের দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা এস্টার অশিন বলেন, ‘শিশুদের ফেরত পাঠানোর অর্থ হচ্ছে তাদের নরকে ঠেলে দেওয়া, এটা কোনো সমাধান নয়। ’

শরণার্থীদের রুখতে লিবিয়ান উপকূলরক্ষীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তারা যেন শরণার্থীদের নৌকা আন্তর্জাতিক জলসীমানায় পৌঁছানোর আগে তা রুখে দিতে পারে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য