kalerkantho


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের খরদৃষ্টি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের খরদৃষ্টি

এখন থেকে ইরানের ওপর আলাদা করে নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরকার পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উেক্ষপণ করার চার দিনের মাথায় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র এ ঘোষণা দেয়।

গত রবিবার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় ইরান। জার্মানির এক সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, ইরান ‘সুমার’ নামের যে ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা করেছে, সেটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। পরীক্ষামূলক উেক্ষপণকালে এটি প্রায় ৬০০ মাইল পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র দুই হাজার থেকে তিন হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সেটি দিয়ে সহজেই ইসরায়েল, এমনকি ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত আনা সম্ভব।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে। পরদিনই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানকে নজরে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন বলেন, ‘ইরান সাহসী হয়ে উঠেছে। আজ থেকে আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখব। ’ নজরদারির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানের গত রবিবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘একদম অগ্রহণযোগ্য’ বলেছে। ইরানের এ কার্যক্রম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের বিরুদ্ধাচরণ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিন। তবে সেটা ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তির পরিপন্থী কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি অমান্য করেনি। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসেইন দেঘান বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এটা জেসিপিওএ (পরমাণু চুক্তি) কিংবা ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থসিদ্ধি ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করব, সেই ঘোষণা আমরা আগেই দিয়েছি। আমাদের সিদ্ধান্তকে কেউ প্রভাবিত করতে পারবে না। ’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করার পরিবর্তে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কিভাবে এগোব এবং এর কৌশলগত দিকগুলো কী হবে, সেসব আমরা পর্যালোচনা করছি। আমরা আন্তরিকভাবে চাই, ইরান বিষয়টি আমলে নেবে এবং এ ধরনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। ’

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য