kalerkantho


ট্রাম্পের কারণে বিরহের কাল দম্পতিদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের কারণে বিরহের কাল দম্পতিদের

বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। স্বামী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

আর বউটি থাকেন ইরানে। দুই বছর আগে ইরানেই এক পার্টিতে পরিচয় হয় দুজনের। ভালো লাগার শুরু ওখান থেকেই। বিয়েটাও হয়ে যায়। স্বামী ফিরে যান তাঁর নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। ঠিক হয় স্ত্রীর কাগজপত্র তৈরি করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে বউকে আমেরিকায় যাওয়ার পাকা কাগজও হাতে চলে আসে। ঠিক করেন ভালোবাসা দিবসে দেখা হবে তাঁদের।

এমন স্বপ্নময় একটা সময়ই রঙ্গমঞ্চে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একেবারে হঠাৎ করেই ঘোষণা দেন সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকরা চটজলদি প্রবেশ করতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে ইরান অন্যতম। আর এই নির্বাহী আদেশের মর্মান্তিক এক গেরো গিয়ে পড়ে ৩১ বছর বয়সী নববধূ ও স্থপতি ঝিনোউসের গলায়। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তাঁর স্বামীর কাছে যাওয়া আটকে গেছে। আপাতত অন্তত চার মাসের জন্য। এরপর কী হবে তা সম্ভবত খোদ ট্রাম্পও জানেন না।

ঝিনোউসের স্বামী ৩২ বছর বয়সী রুজবেহ আলিয়াবাদি কাজ করেন এক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে। পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ থেকে এক টেলিফোন সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, ‘আমার মন ভেঙে গেছে। ’ তাঁর সুদূরতম দুঃস্বপ্নেও ছিল না এমন কিছু যুক্তরাষ্ট্রে ঘটতে পারে। ‘বউ ছাড়া বিয়ের অর্থ কী বলুন তো? সত্যি কথাটি হলো আমরা পরিকল্পনা করাও ছেড়ে দিয়েছি। ’

একেবারে ব্যক্তিগত বেদনাকে এভাবে হয়তো কেউ প্রকাশ্যে আনেন না। আলিয়াবাদির বিষয়টি সামনে এসেছে তাঁর এক টুইটার পোস্টের মাধ্যমে। যেখানে তিনি সস্ত্রীক একটি ছবি দিয়ে জানিয়েছেন, একেবারে সাধারণ আমেরিকানদের ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত কী যন্ত্রণার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, একটি চেক শার্ট পরা ঝিনোউসের পাশে ব্লেজার পরে দাঁড়িয়ে আলিয়াবাদি। টুইটে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালোবাসা আরো তীব্র হবে। ’ এই টুইট ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।

বার্তা সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করার বিষয়ে আমরা সবাই সচেতন। আমি বলতে চেয়েছি যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের স্বাভাবিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে। ’ তিনি জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর মুসলমান হিসেবে তিনি নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন। তবে এগুলোর কোনোটাই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো ভয়াবহ পর্যায়ের নয়। ‘আজ আমার মতো মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। ’

বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি ইরানি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। ২০১৫ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ৩৫ হাজার ইরানি।    

আলিয়াবাদি প্রশ্ন করেন, ‘আমার এখন কী করার আছে? আমার স্ত্রী এখনই যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে না। তাহলে ট্রাম্প কি বলছেন আমাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হয়ে যেতে হবে? নাকি আমি আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেব?’ জানালেন ঠিক দুটি বিষয় নিয়ে এখন লড়াই করতে চান তিনি। প্রথমটি আমেরিকাকে দেখানো যে ইরানিরা আইন মেনে চলা ভালো মানুষ আর দ্বিতীয়টি হলো স্ত্রীকে তাঁর কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করা। ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছি, ৪৫তম প্রেসিডেন্ট কী বলছে তা কানে তুলো না। অসাধারণ একটি দেশ এটি। তবে ও বিষয়টা বুঝতে পারছে না। আসতে না পারার প্রাথমিক ধাক্কাটাই কাটাতে পারেনি ও। ’ আশায় আছেন এই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই তাঁর স্ত্রী তাঁর কাছে আসতে পারবেন। ‘এ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আমি আস্থাবান। ’

ঠাট্টা করে জানালেন, স্ত্রীকে আলিয়াবাদি বলেছেন, ‘এ পরিস্থিতির ভালো দিকটিও লক্ষ করো। আর পাঁচ বা ১০ বছর পর এ নিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে কী দুর্দান্ত একটি গল্প বলতে পারব। এসব গল্পের মধ্য দিয়ে আমার সন্তানরা ট্রাম্পকে খুব ভালোভাবে চিনতে পারবে। তবে হয়তো ভালো মানুষ হিসেবে চিনবে না। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য