kalerkantho


জাতিসংঘের অভিমত

‘ট্রাম্পের নীতি শরণার্থীদের নির্যাতনে ঠেলে দেবে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন। সংস্থাটির পাঁচ বিশেষজ্ঞ গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এটাও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের জেরে শরণার্থীরা দেশে ফিরতে বাধ্য হলে তারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে পারে।

জাতিসংঘের অভিবাসীবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রাঁসোয়া ক্রেপু, বর্ণবাদবিষয়ক দূত মুতুমা রুতিয়েরে, মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী দূত বেন এমারসন, নির্যাতনবিষয়ক দূত নিলস মেলজার ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতাবিষয়ক দূত আহমেদ শহীদ গতকাল ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী আদেশের সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে জাতিসংঘের দূতরা বলেন, একজন ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে এ ধরনের আদেশ স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক এবং এটা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আরো বেশি কালিমা লেপন করবে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পরিণতি কী হতে পারে সে সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসননীতির কারণে ব্যক্তিভেদে আলাদাভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই ও আশ্রয় প্রদানের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হলে তারা নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা অসম্মানজনক পরিস্থিতির শিকার হতে পারে, এমন ঝুঁকিও থাকছে। এটা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবিকতা ও মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী, যে আইন ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির সমর্থক। ” নন-রিফাউলমেন্ট বলতে বোঝানো হয়, ভিন্ন দেশে আশ্রয়প্রার্থী কোনো ব্যক্তি স্বদেশে ফিরলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলে তাকে জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীরা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হলে নির্যাতনের শিকার হবে, বিশেষজ্ঞরা কেবল এই আশঙ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণরতদের নিয়েও তাঁরা শঙ্কিত। তাঁদের আশঙ্কা, এসব অভিবাসী কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার বা আটকের শিকার হলে সেটা অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকতে পারে এবং তাদের আদতে ফেরতই পাঠানো হবে।

জাতিসংঘের দূতরা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নির্যাতনের ভয়ে ও সংঘাতকবলিত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যে সম্মতি জানিয়েছে, সেটা যেন তারা পালন করে।

সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য