kalerkantho


বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় বাড়বে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় বাড়বে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি

নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, তাতে জঙ্গি হামলার হুমকি আরো বাড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের অভিমত, জঙ্গিরা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে মুসলিমবিরোধী অ্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের প্রচারণায় কাজে লাগাবে এবং প্রতিশোধপরায়ণ মানুষকে জঙ্গি হামলায় আরো বেশি উসকানি দেবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার ইরাক, ইরান, সিরিয়া, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। বিশেষত সিরিয়ার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে জঙ্গিবাদ প্রচারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেছে। কারণে ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা আরো অনেক মুসলমানকে প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামিক স্টেটপন্থী (আইএস) অ্যাকাউন্টে প্রচারণার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ট্রাম্পকে ‘সর্বোত্তম ইসলাম প্রচারক’ অ্যাখ্যা দিয়েছে।

জঙ্গিদের এমন ট্রাম্প প্রশংসার ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থা কাউন্টার একট্রিমিজম প্রজেক্টের পরিচালক ডেভিড ইবসেন বলেন, ‘আমরা যেটা জানি সেটা হলো—ওই গোষ্ঠীগুলো নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটাকে (ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী আদেশ) কাজে লাগাবে। জনতার একটা বিশাল অংশকে লক্ষ্য করে আইএসআইএস (আইএসের আরেক নাম) ও আল-কায়েদা প্রচারণা চালাচ্ছে। আর আমরা জানি, এই প্রচারণার ফল হিসেবে জঙ্গি হামলা হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ’

যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় তিউনিসীয়, চেচেন আমেরিকান, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, আফগান বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিকদের জড়িত থাকার দিকে ইঙ্গিত করে ইবসেন বলেন, ‘(ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের) তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বাইরে আরো অনেক দেশকে নিয়েই মৌলবাদ বিস্তারের শঙ্কা রয়েছে। কাজেই কয়েকটি দেশের ওপর তাঁর এই নিষেধাজ্ঞায় উল্টো ফলও ফলতে পারে। ’ মানুষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিবর্তে মৌলবাদী বার্তার বিস্তার রোধে প্রাধান্য দেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, এমন কথাও বলেছেন ইরাকের সরকারপ্রধান হায়দার আল আবাদি। জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে শামিল ইরাকিদের জন্য এটা শাস্তিমূলক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আবাদি গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা দুর্ভোগের শিকার, তাদের আপনি দায়ী করছেন। যেসব মানুষ আত্মত্যাগ করছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়ছে, আপনি তাদেরই শাস্তি দিচ্ছেন। ’ ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তো আগে বলেছেন, ট্রাম্প ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফারাহ পণ্ডিত। সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ফারাহ ওই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দৃঢ় অভিমত, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আইএসের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে অধিকতর নিরাপদ করতে পারবে না। ’ বরং এর ফল উল্টো হতে পারে মন্তব্য করে তিনি জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে বলেন, ‘মানুষ কিভাবে মৌলবাদী হয়ে ওঠে, সেই বাস্তবতার দিকে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। আমাদের যে কাজটা অবশ্যই করতে হবে, সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র বনাম তারা অ্যাখ্যানকে খোঁচা মারতে হবে। তা না হলে বিরোধ আরো ফুলে-ফেঁপে উঠবে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য