kalerkantho


বিবিসির বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী আদেশ কতটা বৈধ?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী  আদেশ কতটা বৈধ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী আদেশে পরিণত হবে কি না, সেটা কংগ্রেসের ওপরই নির্ভর করছে। কিন্তু ইস্যুটা কংগ্রেসে ওঠার আগেই ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করছে বিভিন্ন সংগঠন। বিতর্ক চলছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণ এখানে তুলে ধরা হলো।

ট্রাম্পের অভিবাসননীতি বাস্তবায়নের পথে অন্যতম কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়াবেন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা (মেজরিটি লিডার) মিচ ম্যাককনেল। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টা (ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশ) আর বেশি দূর গড়াবে কি গড়াবে না, সেটা আদালতই নির্ধারণ করবেন। ’

ট্রাম্পের আদেশকে ‘মুসলিম বর্জনের আদেশ’ আখ্যা দিয়ে এরই মধ্যে মামলা করেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। তাদের দাবি, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রধর্মের প্রতি সমর্থনের নামান্তর এবং এটা সংবিধানের প্রথম অধ্যাদেশের লঙ্ঘন। এ অধ্যাদেশ অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কোনো ধর্মের প্রতি সমর্থনসূচক আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। ট্রাম্পের আদেশের ফলে পঞ্চম ও চতুর্দশ অধ্যাদেশেরও লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা তৈরি করা হচ্ছে।

অপরদিকে রক্ষণশীলরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিধানের সুযোগ ভোগ করার কোনো অধিকার বিদেশিদের নেই। ড্যান ম্যাক্লফলিন তাঁর এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘আমাদের সংবিধান কাজে লগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দাবি তোলার অধিকার বিদেশিদের নেই। যদি কোনো কারণে তাদের প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, এমনকি সেটা যদি স্পষ্টভাবে ধর্মবৈষম্যও হয়, তবে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার তাদের নেই। ’

অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ১৯৫২ সালের অভিবাসী আইনের উল্লেখ করেছেন। এ আইনে বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থবিরোধী মনে হলে প্রেসিডেন্ট সব বিদেশির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ স্থগিত করতে পারেন। কিন্তু ১৯৬৫ সালে এ আইনের পর্যালোচনায় বলা হয়, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণ, লিঙ্গ, জাতীয়তা, জন্মস্থান কিংবা বাসস্থান বিবেচনায় নিয়ে কোনো ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। বিষয়টি উল্লেখ করে অভিবাসননীতিবিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড জে বেয়ার বলেন, ‘ট্রাম্প বোধ হয় জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করার রীতি ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। ’ তাঁর অভিমত, আইন অনুযায়ী ইরাক, সুদান কিংবা কানাডা, যেখানকার নাগরিকই হোক না কেন, তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।

কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান আর আইন নয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেও ট্রাম্পের অভিবাসননীতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। টেলিফোনে ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। এক বিবৃতিতে মার্কেলের মুখপাত্র স্টেফেন সেইবার্ট বলেন, ‘জেনেভা শরণার্থী নীতিমালা অনুসারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক বিবেচনায় যুদ্ধপীড়িত শরণার্থীদের গ্রহণ করতে হবে। নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী সব রাষ্ট্র সেটা করতে বাধ্য। গতকাল (সোমবার) ফোনে জার্মান সরকার এই নীতিমালার কথা (ট্রাম্পকে) বলেছে। ’

ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের লিয়াম থর্টন জানান, বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে জাতীয়-আন্তর্জাতিক সব বিচারেই ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য