kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসলামাবাদে দরিদ্রদের আশার আলো আউটডোর স্কুল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইসলামাবাদে দরিদ্রদের আশার আলো আউটডোর স্কুল

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি পার্কের এক কিনারায় কিছু ছেলেমেয়েকে পাঠদান করছেন এক বয়স্ক লোক। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা সবাই হতদরিদ্র পরিবারের।

৩০ বছর ধরে দরিদ্র শিশুদের বিনা পয়সায় পাঠদান করে আসছেন এ মানুষটি। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর ছাত্রদের অনেকেই পরবর্তী সময় উচ্চশিক্ষা নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন, পেয়েছেন সরকারি চাকরি। আবার অনেকে করছেন ব্যবসা। খোলা আকাশের নিচে ‘আউটডোর স্কুল’ নামে পরিচিতি পাওয়া স্কুলটি ইসলামাবাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাগিয়েছে আশার আলো।

যে মানুষটি এ মহৎ কাজে নিজেকে সপে দিয়েছেন তাঁর নাম মুহাম্মাদ আইয়ুব। তিনি তাঁর অফিস থেকে সাইকেলে করে এ অস্থায়ী স্কুলে শিশুদের পাঠদান করতে আসেন। ৩০ বছর ধরে এ শিক্ষক এভাবেই আশপাশের বস্তির শিশুদের অবৈতনিক শিক্ষা প্রদান করছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মাস্টার’ নামেই সুপরিচিত। খোলা আকাশের নিচে এ স্কুলটিতে কোনো দেয়াল, ছাদ বা চেয়ার নেই। সূর্যের আলোই এখানকার একমাত্র আলোর উৎস।

পাকিস্তানে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতের মতো তহবিল নেই। দেশটিতে দুই কোটি ৪০ লাখ শিশু স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না।

হতভাগ্য শিশুদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার আশা নিয়ে এগিয়ে চলা শিক্ষক আইয়ুব (৫৮) স্থানীয়দের কাছে একজন হিরো। ফরহাত আব্বাস নামের ২০ বছর বয়সী একজন বলেন, ‘আমি অশিক্ষার অন্ধকার থেকে শিক্ষার আলোতে আসি। আমার ৯ বছর বয়সে মাস্টার আইয়ুবের রূপ নিয়ে একজন ফেরেশতা আমাকে অশিক্ষার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন। ’ আব্বাস এখন স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত। ১৯৮৬ সালে মাস্টার আইয়ুবের স্কুল শুরু হয়। হিনা শাহবাজ (১৭) নামের একজন বলে, ‘আমি বিজ্ঞান পছন্দ করি এবং আমি একজন প্রকৌশলী হতে চাই। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য