kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মসুল রক্ষায় কিরকুকে আইএসের হামলা

আরো আটটি গ্রামে ইরাকি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইরাকের মসুল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে ইরাকি বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের মধ্যেই দিবিস ও কিরকুক শহরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। গতকাল শুক্রবার জঙ্গিরা বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালায়।

এতে কমপক্ষে ২২ জন নিহতের খবর জানিয়েছে ওই দুই শহর কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকরা এসব হামলাকে মসুল অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গিদের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছেন।

মসুল অভিযানের পঞ্চম দিন গতকাল শহরটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরো আটটি গ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরাকের সেনাবাহিনী। কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ও পূর্ব দিক হয়ে মসুলের পথে তারা আরো এগিয়েছে। আইএস দাবি করেছে, উত্তর-পূর্ব দিকে পেশমেরগাদের অবস্থান লক্ষ্য করে তারা কমপক্ষে পাঁচটি গাড়িবোমা হামলা চালিয়েছে। আইএসবিরোধী অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিনে পাঁচ হাজার ৬৪০ জন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ইরাকের সেনাবাহিনী, দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ বাহিনী, কুর্দি পেশমেরগা, ইরানের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি ও ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় যোদ্ধাদের প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী গত সোমবার থেকে আইএসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপদেষ্টারা এতে সহায়তা দিচ্ছে। সম্মিলিত বাহিনীকে প্রতিরোধে আইএস মসুলের সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি জঙ্গিরা আশপাশের গ্রাম থেকে জোর করে মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে বলে গতকাল জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রা’আদ আল হুসেইন। তিনি জানান, মসুলের কাছাকাছি সামালিয়া ও নাজাফিয়া গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবারকে জোর করে মসুলে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা, এমন তথ্য তাঁরা পেয়েছেন।

ইরাকে নিজেদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি রক্ষায় নানা তৎপরতার পাশাপাশি আইএস অন্য দুটি শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দিবিস শহরে এবং এর আগে মধ্যরাত থেকে কিরকুক শহরে হামলা শুরু করেছে জঙ্গিরা। মসুল থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত কিরকুক শহরে হামলার ভয়াবহতা বেশি। এখানে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে কমপক্ষে পাঁচটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। আইএসের মুখপত্র আমাক সংবাদ সংস্থায় এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।   কিরকুকে অর্ধেকের বেশি এলাকা জঙ্গিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আইএস বাড়িয়ে বলছে। তবে শহরের বাসিন্দা হায়দার আবদেল হুসাইন জানিয়েছেন, তিনি ভোরে প্রকাশ্যে জঙ্গিদের ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন। এ ছাড়া কিরকুক থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে দিবিস শহরে গতকাল ভোর ৬টায় ইরানি কম্পানির নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে চারজন ইরানি টেকনিশিয়ান ও ১২ জন ইরাকি কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র আবদুল্লাহ নুরেদ্দিন আল-সালেহি।

কিরকুকের গভর্নর নাজমেদ্দিন করিমের ধারণা, ঘাপটি মেরে থাকা আইএস জঙ্গিরা এসব হামলা চালিয়েছে। এ হামলার কারণ সম্পর্কে তাঁর অভিমত, ‘মসুল অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তারা হয়তো এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৈন্য সরিয়ে আনা হয় এবং কিরকুকের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। তা ছাড়া এমনো হতে পারে, মসুলে যেহেতু তারা পরাজিত হচ্ছে, তাই এসব হামলা চালিয়ে তারা মনোবল বাড়াতে চাচ্ছে। ’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য