kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসির বিশ্লেষণ

কী হবে যদি ট্রাম্প হারেন আর ফলাফল না মানেন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কী হবে যদি ট্রাম্প হারেন আর ফলাফল না মানেন?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেলে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নির্বিবাদে মেনে নেবেন কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তবে নির্বাচনী প্রচারজুড়ে তাঁর কথাবার্তার ধরন, সেই সঙ্গে তাঁর প্রচার কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের বক্তব্যে ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে, হেরে গেলে সেটা এত সহজে মেনে নেবেন না তিনি।

ট্রাম্প যদি ফলাফল না মানেন তবে কী পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে তা তুলে ধরা হয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে।

স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে ট্রাম্প তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তৃতীয় ও শেষ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে অংশ নেন। নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেবেন কি না—সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে দোটানার মধ্যে রাখব। ’ প্রশ্নের সরাসরি উত্তরের জন্য সঞ্চালক চাপ দিলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি সময় হলে বলব। ’

এ ব্যাপারে ট্রাম্পের উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি গিলিয়ানির মন্তব্য, ট্রাম্পের এ অবস্থান অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর যেমন গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচনের শুদ্ধতাও তেমনই জরুরি। সুতরাং নির্বাচনী লড়াইটা যদি হাড্ডাহাড্ডি হয়, তবে ট্রাম্পের পরাজয় মেনে নেওয়া হবে না। গিলিয়ানি ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডাব্লিউ বুশের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আল গোর তো সেটা মেনে নেননি, তাই না? তিনি ব্যাপারটা নিয়ে আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন। ’

সেবার বুশ-গোর প্রচণ্ড লড়াইয়ের ফলাফলটা নির্ভর করছিল ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাঁদের জয়-পরাজয়ের ওপর। সামান্য ব্যবধানে গোর ওই আসনে হেরে যাওয়ার পর তিনি বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে তোলেন। জয়টা শেষমেশ বুশই ঘরে তোলেন এবং আমেরিকার রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে গোর পরাজয় মেনে নিয়ে জয়ী প্রার্থীকে স্বাগত জানান।

এখন গোরের মতো ট্রাম্পও যদি পরাজিত হন এবং সেটা তিনি না মানেন, তবে কী ঘটতে পারে? এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উত্তরটা অনেকখানি নির্ভর করছে হিলারি-ট্রাম্পের ভোটের ব্যবধানের ওপর। ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে ট্রাম্প অনায়াসে ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলতে পারবেন। এ ছাড়া ইলেক্টোরাল ভোটে কোনো কারচুপির সন্দেহ হলে সন্দেহভাজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকারও ট্রাম্পের থাকছে। কিন্তু হিলারি যদি বিপুল ভোটে জয়ী হন, সে ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরাজয় স্বীকার করা কিংবা না করায় ফলাফলে কোনো হেরফের ঘটবে না। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে একটা দাগ থেকে যাবে।

ট্রাম্প পরাজিত হলে এবং তিনি সেটা না মানলে সে ক্ষেত্রে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। কেননা এই রিপাবলিকান রাজনীতিকের একান্ত অনুগতদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাঁদের নেতা ব্যতিক্রম এবং সে কারণে তিনি দেশের রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরোধিতার শিকার হয়েছেন। বলা দরকার, ডেমোক্র্যাট হিলারি ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নানা কার্যক্রমের পেছনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা, নিজের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহেই সিনসিনাটি শহরে নির্বাচনী সভায় তাঁর এক সমর্থক বলেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে তাঁরা রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবেন।

সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য