kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মসুলের আরো কাছাকাছি ইরাকি ও কুর্দি বাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মসুলের আরো কাছাকাছি ইরাকি ও কুর্দি বাহিনী

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে ইরাকের মসুল পুনর্দখলের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা আর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি। আইএসবিরোধী বাহিনী এখন পর্যন্ত যেসব এলাকা দখলে নিয়েছে, সেগুলোতে জনবসতি তুলনামূলক কম হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ বাহিনী মসুলে প্রবেশের পর এ চিত্র পাল্টে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

যুদ্ধোত্তর মসুলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২০টি দেশের বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন আবাদি। এ সময় তিনি মসুল অভিযানের চতুর্থ দিনের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, ‘যতটা প্রত্যাশা ছিল এবং যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়ে দ্রুতগতিতে আমরা এগোচ্ছি। ’ ইরাক ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেন। আগামী মঙ্গলবার ইরাক-যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে মসুলের ভবিষ্যৎ বিষয়ক আরেকটি বৈঠক প্যারিসে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মসুলের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কুর্দি পেশমেরগা কমান্ডাররা জানান, স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৬টায় তারা মসুলের উত্তর-পূর্ব দিকে বাশিকা গ্রাম দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করেন। এক বিবৃতিতে এ বাহিনী জানায়, মসুলের আশপাশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি গ্রামে আইএসের তত্পরতা পুরোপুরি বন্ধ করে সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এমনকি নিরাপত্তা বর্মও তাদের নেই বলে অভিযোগ করেছেন এক ঊর্ধ্বতন পেশমেরগা কমান্ডার শেখ জাফর শেখ মুস্তাফা। তিনি বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে আমাদের এসব অর্জন করতে হচ্ছে। ’ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা ধীরে এবং খুব সতর্ক হয়ে এগোচ্ছেন।

মসুলের পূর্ব দিকের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, পেশমেরগার সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগ দিয়েছে ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ বাহিনী। তারা মসুলের সীমানা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বারতাল্লার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। বিশেষ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ওয়াহাব আল-সাদি জানান, বারতাল্লার একেবারে কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য তাদের মাত্র সাড়ে ৭০০ মিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ দিক দিয়ে এগিয়ে যাওয়া ইরাকি বাহিনীও অনেকটা এগিয়েছে। যুদ্ধে কুর্দি পেশমেরগাদের পাশাপাশি ইরানের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টিও (পিএকে) যোগ দিয়েছে।

এসব অভিযান চলাকালে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া লোকজন খুব বেশি চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছে আইএসবিরোধী বাহিনীর সদস্যরা। যারা পালিয়ে আসছে, তাদেরই একজন আবু হুসেই জানান, জঙ্গিরা বিমান হামলা ঠেকাতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি করছে, যাতে ওপর থেকে তাদের তত্পরতা চোখে না পড়ে। ওই ধোঁয়ার মধ্যে হুসেইনের মতো অনেকে পালানোর সুযোগ পেয়েছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, আইএসবিরোধী বাহিনী মসুলে প্রবেশ করলে যুদ্ধের ভয়াবহতায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে। বেশ কিছু আইএস নেতা ইতিমধ্যে মসুল ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির অবস্থান জানা যায়নি। আত্মরক্ষার স্বার্থে শহরে আইএস যোদ্ধারা সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। জঙ্গিদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য