kalerkantho


মসুল অভিযানে অগ্রগতি

আইএসের বাধার মুখেও পালাচ্ছে মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আইএসের বাধার মুখেও পালাচ্ছে মানুষ

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি মসুল অভিযানে আরো এগিয়েছে সেনাবাহিনী ও কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী। তাদের প্রতিরোধে মসুলবাসীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা।

আইএসের বাধা সত্ত্বেও সুযোগ বুঝে পালাতে শুরু করেছে স্থানীয়রা।

মসুল অভিযানের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবারের অগ্রগতি সম্পর্কে ইরাকি কমান্ডাররা জানান, আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা, আগে থেকে পেতে রাখা মাইন ও ফাঁদের মাধ্যমে প্রতিরোধ পড়ে তোলার চেষ্টা করছে আইএস। তাই তাড়াহুড়া না করে সতর্কভাবে এগোচ্ছেন তাঁরা। প্রধান দুই দিকের আক্রমণে অনেকটা এগিয়েছে আইএসবিরোধী বাহিনী। ইরাকি বাহিনী দক্ষিণ দিক দিয়ে এবং কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী পূর্ব দিক দিয়ে মসুলের পথে এগোচ্ছে। উভয় বাহিনী মসুলের সীমানা থেকে ৩০-৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। পেশমেরগা বাহিনী ইতিমধ্যে কারাকোশে প্রবেশ করেছে। কারাকোশে পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগেই জয়োল্লাস শুরু করে দিয়েছে সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরা, যারা বর্তমানে কুর্দি অধ্যুষিত এরবিলে রয়েছে।

ইরাকের কেন্দ্রীয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মসুলের দক্ষিণে আল-শুরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর সেখানকার পুরুষ বাসিন্দাদের একত্রিত করে ইরাকি বাহিনী।

পুরুষদের মধ্যে আইএস সদস্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, বেশ কিছু মানুষ সাদা পতাকা নিয়ে সতর্কভাবে ইরাকি বাহিনীর দিকে এগিয়ে এসেছে। বাকিরা নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করছে। যুদ্ধ চলাকালে সাধারণ মানুষকে পালানোর পরিবর্তে ঘরেই থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ উদ্দেশ্যে নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। অভিযান শুরুর আগেই বিমান থেকে এসব লিফলেট ফেলা হয়। ইরাক সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ পালাতে চেষ্টা করলে তাদের হত্যা করবে আইএস। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে ছাপানো ওই সব লিফলেটে সাধারণ মানুষকে আত্মরক্ষার উপায় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আইএসের হাতে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা সত্ত্বেও মসুল থেকে পালাচ্ছে মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৯০০ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় শরণার্থী শিবিরে চলে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, মসুল যুদ্ধে কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ শহর ছেড়ে পালাবে। যুদ্ধের ভয়াবহতা বেশি হলে এ সংখ্যা ১০ লাখে দাঁড়াতে পারে বলে জাতিসংঘের অনুমান। সংস্থাটি হিসাবে মসুলে বর্তমানে ১৫ লাখ লোক রয়েছে। শহরের ভেতরে ও আশপাশে আইএস যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। ইরাকের তেলসমৃদ্ধ দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শহরের দখল নিতে প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের বাহিনী মসুলের দিকে এগোচ্ছে। তাদের সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমানবাহিনী। স্থলভাগে জোটের ১০০ জন উপদেষ্টাও রয়েছে।

সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইএস মসুলবাসীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জেফ ডেভিস জানান, সাধারণ মানুষকে শহর ছাড়তে দিচ্ছে না আইএস। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য