kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাড়ি ফেরার যুদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইরাকের মসুল শহর থেকে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) হটানোর যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, কারো কারো কাছে সেটা নিজ শহরে নির্ভয়ে ফিরে যাওয়ার যুদ্ধ, স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুদ্ধ।

গত সোমবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি মসুল যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

এ যুদ্ধে এমন অনেকে সৈনিক হিসেবে অংশ নিয়েছে, যারা ২০১৪ সালের জুনে আইএসের সঙ্গে লড়াইয়ে আহত হয়েছে কিংবা জঙ্গিদের তাণ্ডবে শহর থেকে বিতাড়িত হয়েছে।

মসুলের দিকে রওনা হওয়া ইরাকি বাহিনীতে রয়েছেন আহমেদ, যিনি দুই বছর আগে ওই শহরে পুলিশ বাহিনীতে ছিলেন। আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিনি পায়ে আঘাত পান। গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসায় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না আসায় শেষ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা রণে ভঙ্গ দিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন। বিতাড়িত মসুলবাসীর জন্য নির্ধারিত শিবিরে তিনি কাটিয়েছেন ছয় মাসের বেশি সময়। এরপর নীরবে পরিবারের সঙ্গে কাটান প্রায় দুই মাস। একদিন পুলিশ বাহিনী থেকে তাঁর ডাক আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অধীনে আহমেদসহ আরো অনেকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়। এখন তিনি নিনেভেহ প্রাদেশিক পুলিশ সদস্য হিসেবে মসুল যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। তবে আহমেদ যে ইউনিটে রয়েছেন, সেটি সরাসরি মসুল যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না। বরং আইএসের দখলমুক্ত এলাকার নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে তাদের রাখা হয়েছে।

আহমেদ অবশ্য মসুলে মূল আক্রমণ পর্বে অংশ নিতে চান। কারণ এ যুদ্ধ তাঁর জন্য অনেকটাই ব্যক্তিগত। তাঁর কাছে মসুল জয়ের মানে হলো বাড়ি ফেরা, স্বজনদের সান্নিধ্য পাওয়া, পরিচিত মুখগুলোর দেখা পাওয়া। দুই বছর আগে আইএসের হামলায় পিছু হটার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সব সময় মনে হয়, রাষ্ট্র বোধ হয় আমাদের বিশ্বাসঘাতক ভাবছে। আমরা প্রমাণ করতে চাই, এ ভাবনার ঠিক উল্টোটাই আমাদের চরিত্রে রয়েছে। ’

আইএসের হাতে মসুল পতনের কারণ তদন্তে এর দায় অনেকটা চেপেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাঁধে। আটক এক আইএস নেতাসহ অন্য আরো সূত্র থেকে মসুল হামলার আগাম খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেসব তথ্য কোনো কাজে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী মালিকি ওই সময় সেনাবাহিনীকে অদক্ষ নেতৃত্বের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বাহিনীকে দুর্বল করে ফেলেছিল।   সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য