kalerkantho


মসুল অভিযানের প্রথম দিন

অনেকটা অগ্রসর হয়েছে ইরাকি ও কুর্দি বাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অনেকটা অগ্রসর হয়েছে ইরাকি ও কুর্দি বাহিনী

ইরাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শক্তিশালী ঘাঁটি মসুল পুনরুদ্ধারের অভিযানে প্রথম দিন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে—ইরাকের সেনাবাহিনী, কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

গত সোমবার অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি।

এ যুদ্ধে স্থল বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমানবাহিনী।

পেন্টাগন জানায়, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম দিনের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ইরাকি বাহিনী ও পেশমেরগা বাহিনীও তাদের অর্জন জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আলাদা বিবৃতি দিয়েছে। এতে জানা গেছে, মসুলের পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের মোট ২০টি গ্রাম জঙ্গিদের দখল থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আরবিল শহর থেকে মসুলগামী পশ্চিমমুখী মহাসড়কের ৮০ কিলোমিটার অংশের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে পেশমেরগাদের হাতে রয়েছে। অভিযানকালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমানবাহিনী আইএসের ১৭টি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং কমপক্ষে চারটি গাড়িবোমা ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্মিলিত বাহিনী অভিযানের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের কথা জানালেও পেন্টাগন আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কঠিন লড়াই হবে এবং লড়াই দীর্ঘায়িত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার ধারণা, আইএসের কাছ থেকে মসুল উদ্ধারে কয়েক সপ্তাহ এমনকি এর চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

কেননা সম্মিলিত বাহিনীর অভিযান শুরুর মুখে আইএস বসে নেই। আইএস দাবি করেছে, তারাও বেশ কিছু আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালিয়েছে। সোমবার অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টা মাথায় রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে এবং আইএস এর দায় স্বীকার করেছে।

২০১৪ সালে জুনে মসুল আইএসের দখলে চলে যায়। মসুলের দখল নেওয়ার পর জঙ্গিগোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়াজুড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে খেলাফত ঘোষণা করে। ফলে আইএসের কাছ থেকে মসুলের দখল কেড়ে নেওয়াটা প্রতীকী অর্থে খুব মূল্যবান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মসুলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে কার্যত তা ইরাকে আইএসের পরাজয় নির্দেশ করবে। সেটা ঘটলে তাদের দখলে থাকা সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে থাকছে সিরিয়ার রাকা শহর। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য