kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মসুল উদ্ধারে ‘ঐতিহাসিক’ অভিযান শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মসুল উদ্ধারে ‘ঐতিহাসিক’ অভিযান শুরু

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে ইরাকের মসুল শহর পুনরুদ্ধারে ইরাকি বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল এই বাহিনী মসুল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে আল-শুরাহ এলাকায় অবস্থান নেয়। ছবি : এএফপি

ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের সর্বশেষ বড় ঘাঁটি মসুল শহর উদ্ধারে ‘ঐতিহাসিক অভিযান’ শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। শহরটিতে বেসামরিক লোকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যেই গতকাল সোমবার ভোরে এ অভিযান শুরু হয়।

ইরাকি, কুর্দি পেশমার্গা ও স্থানীয় সুন্নি নৃগোষ্ঠীর ৩০ হাজার যোদ্ধা অভিযানে অংশ নিচ্ছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোট।

এরই মধ্যে কুর্দিস বার্তা সংস্থা ফিরাতের বরাত দিয়ে গতকাল বার্তা সংস্থা স্পুিনক জানিয়েছে, মসুলের পূর্বে সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৭০ সেনা নিহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আইএসের কোনো সদস্য এ হামলা করেছে।

১৫ লাখ মানুষের শহর মসুল দুই বছর আগে দখল করে নেয় আইএস জঙ্গিরা। এর পরই ইরাক ও সিরিয়ার বড় একটি অঞ্চল নিয়ে নিজেদের খেলাফত ঘোষণা করে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে আট হাজার আইএস জঙ্গি এখনো মসুল শহরে অবস্থান করছে। শেষ পর্যন্ত শহরটি পুনরুদ্ধারে ‘চূড়ান্ত’ অভিযান শুরু হলো।

গতকাল ভোররাত থেকে শহরটির পূর্বদিক থেকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর দখল নিতে কুর্দি যোদ্ধাদের এগিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিমান হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট অভিযানে সহযোগিতা দিচ্ছে।

গতকাল আরবি ভাষার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করা হয়, অভিযান শুরুর পর ‘জিহাদিরা’ শহরটি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে শহরটির কয়েকজন বাসিন্দা এ খবরটি সত্য নয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে। আবু মেহের নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিমান হামলার সম্ভাব্য এলাকা (এয়ার ডিটেকশন) এড়িয়ে চলতে দায়েশ (আইএসের স্থানীয় নাম) বাহিনী মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা লোকদের বাইনোকুলার দিয়ে ভবন ও রাস্তা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ’ আল-জাজিরা টেলিভিশনে বিমান হামলার দৃশ্য সম্প্রচার করে বলা হয়, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আবাদির ঘোষণার পরপরই মসুলে বোমাবর্ষণ শুরু হয়।

এর আগে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রীয় টিভিতে ভাষণ দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দায়েশের সন্ত্রাস ও নির্যাতন থেকে আপনাদের মুক্ত করতে আমি আজ বীরত্বপূর্ণ এক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি। আপনাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি উদ্যাপন করতে শিগগিরই আমরা মসুলের মাটিতে মিলিত হব। সময় এসেছে, মহান বিজয় সন্নিকটে। ’ এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অভিযানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর কমান্ডার লে. জেনারেল স্টিফেন টাউনসেন্ড বলেন, ‘ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটি এই অভিযান এক সপ্তাহ চলতে পারে। আবার দীর্ঘ সময়ও লাগতে পারে। ’

প্রসঙ্গত, মসুলের পতন ঘটলে ইসলামিক স্টেটের সর্বশেষ বড় শহরের ঘাঁটি হবে সিরিয়ার রাকা।

অভিযানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ চার্টার বলেন, ‘আইএসএইএলকে বিতাড়নের অভিযানের এটাই চূড়ান্ত সময়। অভিন্ন শত্রুর মোকাবিলা, মসুল উদ্ধার এবং আইএসআইএলের ঘৃণা ও বর্বরতা থেকে ইরাকের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করতে আমরা আমাদের ইরাকি অংশীদারদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ’ অন্যদিকে অভিযানে মানবিক সংকট ‘মারাত্মক’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ১২ লাখ বেসামরিক মানুষ এ অভিযানের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি।

 


মন্তব্য