kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাঁচ অঙ্গ দান করে পাঁচজনকে ‘পুনর্জন্ম’ দিলেন এক ‘মা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের মহারাষ্ট্রের ৬৩ বছর বয়সী এক ‘মা’ ব্রেন ডেড হয়ে যাওয়ার পর তাঁর দান করা পাঁচটি অঙ্গে ‘প্রাণ’ পেয়ে গেলেন পাঁচজন রোগী। মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের রেডিওলজিস্ট সন্তোষ সারুদকরের ৬৩ বছর বয়সী মায়ের ডান হাত আর পা-টা হঠাৎই একেবারে অচল, অসাড় হয়ে যায়।

দ্রুত তাঁকে ভর্তি করা হয় অ্যাস্টর আধার হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের টেবিলে ডাক্তাররা দেখেন, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। ছেলে সন্তোষ সারুদকরকে ডেকে ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, তাঁর মায়ের ব্রেন ডেড হয়ে গেছে। আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই।

রেডিওলজিস্ট সারুদকরের পরিবার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, মা যখন চলেই যাচ্ছেন তখন তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দিয়ে বরং প্রাণ বাঁচিয়ে যান বিপন্নদের। তাতে বিপন্নরা তো বাঁচবেনই, মা-ও ‘বেঁচে থাকবেন’! সারুদকরের পরিবারের তরফে আরজি জানানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

অ্যাস্টর আধার হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর উল্লাস দামলের কথায়, ‘ওঁরা আমাকে বললেন। কিন্তু আমাদের এমন কোনো অনুমতি ছিল না। আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। আর খুব তাড়াতাড়ি বিশেষ অনুমতি পেয়েও গেলাম। ওই নারীর শরীর থেকে একে একে তুলে নেওয়া হলো দুটি কিডনি, লিভার, দুটি চোখ। অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে ৯টায়। শেষ হলো দুপুর ২টা নাগাদ। সাড়ে চার ঘণ্টার ওই অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পরপরই মায়ের শরীর থেকে বের করে আনা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো একটি বিমানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুনের একটি হাসপাতালে। সেখানে পাঁচজন রোগীর ওই পাঁচটি অঙ্গের জরুরি প্রয়োজন ছিল। কাউকে দেওয়া হলো লিভার, কাউকে কিডনি, কাউকে বা সারুদকরের মায়ের চোখের রেটিনা। ’

গত মঙ্গলবার এই অঙ্গদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, কোলাপুরের মতো ছোট্ট একটি শহরে এই প্রথম কোনো মৃত্যুপথযাত্রী অঙ্গদান করলেন। সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য