kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপরাধ দমনে ট্রাম্পের পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কিত কৃষ্ণাঙ্গরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অপরাধ দমনে ট্রাম্পের পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কিত কৃষ্ণাঙ্গরা

রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ‘আইন-শৃঙ্খলা’। তবে এই শব্দযুগলের গভীরে কোথায় যেন বর্ণবৈষম্য জড়িয়ে আছে।

আর এখানে এসেই থেমে যায় আফ্রিকান-আমেরিকানরা।

জানা গেছে, আকস্মিক হামলা এবং গুলি করে হত্যার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগোতে। এ বছরই এখন পর্যন্ত এমন ঘটনায় ৫৭৯ জন নিহত হয়েছে, যা নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মিলিত ঘটনার চেয়েও বেশি।

শিকাগোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ‘স্টপ অ্যান্ড ফ্রিস্ক’ নামের একটি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যেখানে পুলিশ চাইলে যে কাউকে তল্লাশি করতে পারবে। সে অপরাধী বা সন্দেহভাজন হোক বা না হোক। এই পদ্ধতির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে গত মাসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কিছু একটা করতে হবে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। ’ তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা এবং এই মন্তব্যে শিকাগোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ ধরনের পদ্ধতি এর আগেও প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের ওপরই এর প্রয়োগ বেশি হয়। শিকাগো পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এডি জনসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এমন কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাই না যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের মানবাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়বে। ’ পুলিশের কমিউনিটিবিষয়ক এক উপদেষ্টা রবিন রবিনসন বলেন, ‘এই পদ্ধতি খুব একটা কার্যকরও নয়। ’ এই কৃষ্ণাঙ্গ উপদেষ্টা আরো বলেন, মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়, যা আইন প্রয়োগকারীদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরো বাড়াবে।

শিকাগোর এক কমিউনিটি মানবাধিকারকর্মী জেদিদিয়া ব্রাউন বলেন, এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই সবার সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে যেখানে মানুষ আপনার সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারবে, বিশ্বাস করবে, বিপথগামীদের সম্পর্কে জানাবে।

ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, নিউ ইয়র্কে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। তবে এক ফেডারেল বিচারক একে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করার পর নতুন মেয়র বিল দ্য ব্লাসিও এটি বন্ধ করে দেন। একটি মানবাধিকার সংগঠন ইলিনয় চ্যাপ্টার অব দ্য অ্যামেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) জানায়, শিকাগোতে শুধু ২০১৪ সালেই অন্তত আড়াই লাখ মানুষকে তল্লাশি করেছে পুলিশ। যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং এর বেশির ভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। এই চেষ্টা বন্ধের জন্য গত বছর এসিএলইউ শিকাগো পুলিশের সঙ্গে একটি সমঝোতা করে।

তার পরও শিকাগোর পরিস্থিতি নিয়ে আফ্রিকান আমেরিকানরা সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্প প্রচারকালে শিকাগোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের সঙ্গে তুলনা করে ‘শিরাক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বিষয়টিও পছন্দ হয়নি তাদের। একই সঙ্গে এই শহর থেকে শুরু হওয়া ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার—নামের আন্দোলনটিকেও ট্রাম্প খুব একটা সুনজরে দেখেন না। ফলে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রাম্প যতই আফ্রিকান আমেরিকানদের ঘনিষ্ঠ হতে চান না কেন কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে তার বিষয়ে আস্থা তৈরি হয়নি। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য