kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছদ্মনামে আত্মজীবনী লিখেছিলেন হিটলার!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘মাইন কাম্ফ’ বইটি অ্যাডলফ হিটলারের প্রথম আত্মজীবনী হিসেবে বহুল পরিচিত। তবে একজন ইতিহাসবিদ বলছেন, হিটলার ছদ্মনামে একটি বই লিখেছিলেন এবং সেটাকে তাঁর প্রথম আত্মজীবনী বলা যায়।

সেই বইতে নিজেকে তিনি জার্মানির ত্রাণকর্তা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

১৯২৩ সালে ‘অ্যাডলফ হিটলার : তাঁর জীবন এবং কথা’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটিতে ভিক্টর ফন কোয়েরবার নামটি স্বাক্ষরিত ছিল। যদিও হিটলার নিজেই ছিলেন এ বইয়ের লেখক। এমনটাই বলছেন ইতিহাসবিদ টোমাস ভেবের। স্কটল্যান্ডের আবেরডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক দাবি করছেন, তিনি এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন যার ফলে এ বিষয়ে তিনি মোটামুটি নিশ্চিত। ৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানান।

মাইন কাম্ফ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৫ থেকে ১৯২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে। বইটিকে হিটলারের প্রথম আত্মজীবনী বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। টোমাস ভেবের বলেন, ‘হিটলার কিভাবে নািস হলেন, এ সম্পর্কে একটি বই লিখতে গিয়ে গবেষণা করছিলাম, তখনই বিষয়টি উদ্ঘাটন করি। ’ ফন কোয়েরবারের ব্যক্তিগত কাগজপত্র রাখা আছে জোহানেসবার্গে, সেখানে টোমাস বেশ কিছু স্বাক্ষর করা নথিপত্র পান, যা থেকে তিনি বুঝতে পারেন, আসলে ভিক্টর ফন কোয়েরবার ওই বই লেখেননি।

টোমাস দাবি করেছেন, ‘কোয়েরবারের হাতে লেখা কিছু কাগজপত্র পেয়েছি, যা থেকে খুব সহজেই প্রমাণ করা যাবে যে ওই জীবনীটি হিটলার নিজে লিখেছিলেন। ’

টোমাসের মতে, আত্মপ্রচারের জন্য হিটলার কত যে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন, এ ঘটনা থেকেও এর কিছুটা নমুনা পাওয়া যায়। জার্মানির রক্ষণশীল সমাজে নিজের চিন্তাভাবনার বিস্ফোরণ ঘটাতে এই বইয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন জার্মানির ত্রাণকর্তা হিসেবে। ওই বইয়ে হিটলারের কথা ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। যখন এটি প্রকাশ হয়, তখন হিটলার বুঝতে পারেন, নিজে যে এটা লিখেছেন সেটা না জানানোই ভালো এবং এ কারণে বইয়ে ভিক্টর ফন কোয়েরবারকে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন তিনি।

তবে অধ্যাপক টোমাস যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন তা এখনই সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করতে চাননি, কেননা, নভেম্বরে ডাচ ভাষায় তিনি হিটলারকে নিয়ে যে বইটি প্রকাশ করতে চলেছেন তাতেই থাকবে সব তথ্য। বইটির নাম ‘হিটলার্স মেটামরফস’। আগামী বছর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ভাষায়ও প্রকাশিত হবে বইটি। সূত্র : ডয়েচে ভ্যালে


মন্তব্য