kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজার জীবনাবসান

থাইল্যান্ডজুড়ে এক বছরের শোক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



থাইল্যান্ডজুড়ে এক বছরের শোক

থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর পর রাস্তায় নেমে আসে বহু শোকাহত মানুষ। দিনের তপ্ত সূর্য থেকে রক্ষা পেতে তাদের অনেকেই ছাতার নিচে আশ্রয় নেয়। ছবিটি গতকাল রাজধানী ব্যাংকক থেকে তোলা। ছবি : এএফপি

থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলাদেজের মৃত্যুতে সারা দেশে শোক পালিত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে থাকা রাজার মৃত্যুতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া আগামী এক বছর সরকারিভাবে শোক পালন করা হবে এবং আগামী ৩০ দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের সর্বজনশ্রদ্ধেয় রাজা ভূমিবল গত বৃহস্পতিবার ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। ওই দিন শেষ রাতেই শোকাহত মানুষ ব্যাংককের রাস্তায় নেমে পড়ে। গতকাল শোক মিছিলে অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে অবস্থান নেয়।

প্রিন্স মহা ভাজিরালংকর্ন নতুন রাজা হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আকস্মিকভাবে তাঁকে রাজ সিংহাসনে বসার আনুষ্ঠানিকতা বিলম্ব করার অনুরোধ জানিয়েছেন সামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা। তিনি দেশবাসীকে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকার থাইবাসীকে ‘কালো পোশাক’ পরিধান করার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি ‘আনন্দঘন অনুষ্ঠান’ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছে। নিউজ ওয়েবসাইটগুলোর পৃষ্ঠা সাদা-কালো করা হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল বিকেলে ভূমিবলের মরদেহ সিরিরাজ হাসপাতাল থেকে শহরের এমারেল্ড মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মৃতদেহ ধোয়ার পর সেখানে ১০০ দিনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শায়িত রাখা হবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করার প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়াটি শুরু হতে এক বছরও লেগে যেতে পারে। ক্রাউন প্রিন্সের রাজার মরদেহ ধৌতকরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা। মরদেহ প্রক্ষালন থাই বৌদ্ধদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের একটি রীতি।

৭০ বছর ধরে রাজার দায়িত্ব পালন করা ভূমিবল থাইল্যান্ডে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে মনে করত জনগণ। থাইল্যান্ডের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালনকারী হিসেবেও বিবেচিত ছিলেন।

ব্যাংককের এক বাসিন্দা রাজার মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই মুহূর্তে তাঁর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিকে হারালাম। আমি মনে করি, তাঁর জন্য অনেক কিছু করা হয়নি। আমার আরো কিছু করা উচিত ছিল। ’

রাজার এ মৃত্যু থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য