kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেরুজালেমকে মুসলিমদের পবিত্র স্থান উল্লেখ

ইউনেসকোর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করল ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জেরুজালেম নিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর সঙ্গে বিবাদে জড়াল ইসরায়েল। ইসরায়েল গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির সঙ্গে তাদের সহযোগিতা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউনেসকোয় গত বৃহস্পতিবার জেরুজালেম বিষয়ে দুটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ইসরায়েলের অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে জেরুজালেমের সঙ্গে ইহুদিদের সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়েছে।

ইউনেসকোর প্রস্তাবে জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদকে কেবল ‘হারাম আল শরিফ’ বলে উল্লেখ করা হয়। মসজিদটি মুসলিমদের কাছে এ নামেই পরিচিত। ইহুদিরা এই স্থানকে বর্ণনা করে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে। সাতটি আরব রাষ্ট্র ইউনেসকোয় প্রস্তাব তোলে যাতে জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরো কয়েকটি পবিত্র জায়গায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতার নিন্দা করা হয়। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পূর্ব জেরুজালেমের আদি বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার কথা বলা হয় এবং পবিত্র স্থান হিসেবে আল আকসা মসজিদকে ‘হারাম আল শরিফ’ বলে বর্ণনা করা হয়। ইসলামে এটি তৃতীয় পবিত্রতম স্থান বলে বিবেচিত। অন্যদিকে ইহুদিদের বিশ্বাস, এখানেই দুটি অত্যন্ত প্রাচীন ইহুদি মন্দিরের অবস্থান।

ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়ে দেওয়া ওই প্রস্তাব বৃহস্পতিবার ২৪-৬ ভোটে গৃহীত হয়। ইউনেসকো ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে তাতে ভোটাভুটির আয়োজন করে। ২৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল, আর দুটি দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিলেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ভোট নেওয়া হবে।

ইউনেসকোয় প্রস্তাবের শিরোনামে ‘দখলকৃত ফিলিস্তিন’ ও ‘ফিলিস্তিন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পূর্ব জেরুজালেমের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। এতেই ইসরায়েল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

গতকাল ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী নাফটালি বেনেট বলেন, ‘ইসরায়েল ন্যাশনাল কমিশন আন্তর্জাতিক এই সংস্থা ইউনেসকোর সঙ্গে সব ধরনের পেশাদারি সহযোগিতা স্থগিত করছে। ’ তিনি ইউনেসকোর পরিচালক ইরিনা বোকোভার কাছে ‘জেরুজালেমের সঙ্গে হাজার হাজার বছরের ইহুদিদের সম্পর্ক’ ও ‘ইসলামী জঙ্গিদের’ সহযোগিতার অভিযোগ করেন। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাপানের আর্থিক সহায়তা স্থগিত নানজিং হত্যাকাণ্ডের বিষয় তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদস্বরূপ জাপান ইউনেসকোকে ৪০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য স্থগিত রেখেছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ৪২ মিলিয়ন ডলার অনুদান স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে এ ব্যাপারে নানজিং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

নানজিং বিষয় নিয়ে অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে জাপান গত বছর জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান কমিটিকে সতর্ক করে দিয়েছিল। ১৯৩৭ সালে চীনা শহর নানজিংয়ের পতনের পর সেখানে জাপানি সেনা নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। সেই সঙ্গে ধর্ষণে মেতেছিল জাপানি সেনারা। জাতিসংঘের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে এ বিষয় লিপিবদ্ধ করা রয়েছে। টোকিও নানজিং হত্যাকাণ্ডের তথ্যাবলি তালিকাভুক্ত না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল এবং এটা রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল।

জাপানি সেনারা ১৯৩০ দশকের শেষ দিকে চীন আক্রমণ করেছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। চীনের দাবি, জাপানি সেনারা নানজিংয়ে প্রবেশ করার পর ছয় সপ্তাহে তিন লাখ মানুষ হত্যা করেছিল। সেই সঙ্গে চালিয়েছিল ধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য