kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রাম্পকে আক্রমণ মিশেল ওবামার

নারীর মর্যাদাহানি এখনই বন্ধ করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নারীর মর্যাদাহানি এখনই বন্ধ করতে হবে

নারীর প্রতি অবমাননার দায় অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গলা ফাটিয়ে চলেছেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন স্বয়ং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। নারীর প্রতি মর্যাদাহানিকর আচরণ এখনই বন্ধ করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারে বক্তৃতা দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মিশেল। তাঁর অভিমত, দলমতনির্বিশেষ কোনো নারীর প্রতি অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়। নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠায় অনেক বছরের প্রচেষ্টার পর ২০১৬ সালে দাঁড়িয়ে তাদের ওপর কোনো ধরনের অবমাননাকর আচরণ চলতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘এখনই আমাদের সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং বলতে হবে, যথেষ্ট হয়েছে। এটা এখনই বন্ধ করতে হবে। ’

নারীর প্রতি ট্রাম্পের অশোভন আচরণের পুরনো রেকর্ড প্রকাশ, পর পর কয়েকটি গণমাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীর অভিযোগ প্রকাশ এবং তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এসব বক্তব্য অস্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে মিশেল আরো বলেন, ‘একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি যৌন শিকারকে তাড়া করে ফেরার কথা বলছেন অবাধে এবং খোলাখুলি। কোনো নারীর প্রতিই এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ’ তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা স্বাভাবিক নয়। এটা কোনো স্বাভাবিক রাজনীতি নয়। এটা মর্যাদাহানিকর। এটা দুর্বিষহ। ’

মিশেল এমন এক সময় এসব কথা বলেছেন, যখন নারীর মর্যাদাহানির অভিযোগে জেরবার ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ফ্লোরিডা ও ওহাইয়োর মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে সাম্প্রতিক জনমত জরিপ তেমন কথাই বলছে। মিশেলের এ বক্তব্যের আগুন জনতার মনে আরো উসকে দেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। একই দিন ওহাইয়োতে বক্তব্য দানকালে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সমালোচনা করেন ওবামা। তাঁর মতে, দশকের পর দশক ধরে রিপাবলিকানদের পুষে রাখা উন্মত্ততার জলাভূমি থেকে উঠে এসেছেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট কিংবা ফার্স্ট লেডি যা-ই বলুন না কেন, ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। ৯ অক্টোবর দ্বিতীয় প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো নারীকে যৌন হেনস্তা করেননি। এরপর থেকে কমপক্ষে ছয়জন নারী দাবি করেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শের শিকার হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনবিসি, পিপল ম্যাগাজিনসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসব নারীর বক্তব্য প্রকাশ পায়। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। অভিযোগকারী দুই নারীর বক্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন প্রত্যাহার না করলে ও ক্ষমা না চাইলে অবিলম্বে এ মামলা করা হবে বলে জানান ট্রাম্প। এ ছাড়া ওয়েস্ট পাম বিচে নির্বাচনী সভায় তিনি আরো দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে নারী অবমাননার এসব অভিযোগ বিদ্বেষপ্রসূত এবং নির্জলা মিথ্যা।

ট্রাম্পের এ হুমকির জবাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ হিসেবে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্যই তারা প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের মানহানি ঘটেনি। বরং ট্রাম্প নিজের কথা আর কর্মকাণ্ড দিয়ে নিজের বিদ্যমান ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য