kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানের ‘অনার কিলিং’

কান্দিলের ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি চান মা-বাবা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’য়ের শিকার কান্দিল বালুচের মা-বাবা জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ছেলেকে তাঁরা ক্ষমা করবেন না। বরং তাঁরা তাঁদের ছেলে ওয়াসিমের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।

কান্দিলের বাবা মুহাম্মদ আজিম ছেলের ব্যাপারে বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে তার জন্য কোনো ক্ষমা নেই। ’ কান্দিলকে হত্যায় ছেলে ওয়াসিমের সঙ্গে জড়িত আরো তিনজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের যাবজ্জীবন হওয়া উচিত অথবা মৃত্যুদণ্ড। আমি খুশি হব। ’

পাকিস্তানে পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে অহরহ ঘটতে থাকা অনার কিলিংয়ের শাস্তি নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার নতুন বিল পাস করে দেশটির পার্লামেন্ট। পুরনো আইন অনুসারে নিহত নারীর পরিবার হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিলে আসামি অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যেত। কিন্তু নতুন বিলে বলা হয়, পরিবার ক্ষমা করলেও তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে হত্যাকারীকে শাস্তি পেতে হবে এবং সেটা হবে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড। নতুন বিল পাসের খবর জানার পর আজিম ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ার মাই উভয়েই ছেলের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন। মা আনোয়ার মাই জানান, বোনকে হত্যা করলে এর ফল কী হবে, সেটা ওয়াসিম বোঝেনি। ছেলে ভেবেছিল, কান্দিলকে হত্যার পর মা-বাবা ছাড়া আর কেউ এ ব্যাপারে মামলা করবে না।

কিন্তু কান্দিল হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। আইনের ফাঁক গলে হত্যাকারীরা পার পেয়ে যায় বলে আইন কঠোর করার দাবি ওঠে। কান্দিল হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর আইন আরো কঠোর করে বিল পাস করা হয়। এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ খুব একটা কার্যকর হবে না বলে মনে করেন পাকিস্তানের আইন বিশেষজ্ঞরা। অপরাধ আইনবিষয়ক অধ্যাপক আবিরা আশফাক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইনপ্রণেতারা এ ধরনের (অনার কিলিং) অপরাধে আপস করার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তারা কেবল শাস্তিটা গুরুতর করেছেন। ’ তিনি জানান, এসব মামলার বেশির ভাগই আদালতের দরজায় আসার আগেই থানায় মিটমাট হয়ে যায়। পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সাংস্কৃতিক এমনকি ভাষাগত পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন অধ্যাপক আশফাক। তাঁর মতে, ‘অনার কিলিং’ অভিধার সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের একটা ইতিবাচক মূল্যবোধ জড়িয়ে থাকে। তাই এ হত্যাকাণ্ডকে নেতিবাচক কোনো শব্দে যেমন—‘পুরুষতান্ত্রিক অপরাধ’ বা ‘নারীবিদ্বেষী অপরাধ’ অ্যাখ্যা দেওয়া উচিত। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য