kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারী সমর্থকরা এখনো আস্থা রাখেন ট্রাম্পে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নারী সমর্থকরা এখনো আস্থা রাখেন ট্রাম্পে

নারীদের সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য—সে তো লকার রুমের প্রসঙ্গ! সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌন সম্পর্ক—না তুলে উপায় ছিল না! জরিপে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন—জরিপকারী সংস্থাগুলো সব মিথ্যুক। এসবই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাফ জবাব।

বিরোধীরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করছে বা দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে ছেড়ে সরে যাচ্ছেন—কোনো কিছুতেই বিচলিত নন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যে অভিলাষ নিয়ে তিনি দেড় বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন তা এখনো একই অবস্থায় রয়েছে।

এখন তাঁর লক্ষ্য যেসব ভোটার কাকে ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত নেননি তাঁদের সমর্থন আদায় করা। তবে তাঁর যে মূল সমর্থক ঘাঁটি, রিপাবলিকান দলের সমর্থন থাক বা না থাক, তারা তাঁকে কখনোই ছেড়ে যাবে না। ২০০৫ সালের কেলেঙ্কারি মাখা ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর গত সোমবার উইলকিস বারে শহরে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে দেখা যায়, তাঁর আসার আগে থেকেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। ‘ট্রাম্প, ট্রাম্প’ ধ্বনি তুলে মেক্সিকান তরঙ্গ তোলার চেষ্টা করছে সমর্থকরা। শহরের মেয়র ডেমোক্র্যাট। দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এ শহরে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ৯.৪ পয়েন্টে। তবে সভা দেখে ধারণা করা যাবে না যে শহরটি ডেমোক্র্যাট ঘেঁষা। সভা শুরুর সাত ঘণ্টা আগে থেকেই সেখানে আসতে শুরু করে ট্রাম্প সমর্থকরা।

২০০৫ সালের ভিডিওটির বিষয়ে এক নারী সমর্থকের কাছে জানতে চাইলে বললেন, বোঝাই যায় ওই সময় ট্রাম্প ‘উচ্ছৃঙ্খল’ ছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো তাঁকেও এখন স্থির হতে হবে। লিনি কুনজ নামে ওই নারী আরো বলেন, ‘এগুলোতে কিছু আসে যায় না। তিনি যাই করুন না কেন, নিজেকে অন্যদের ক্ষেত্রে বিচারকের আসনে বসাতে চাই না আমি। আমি চাই এমন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসুক যিনি দেশের উন্নতি করতে পারবেন। যা হয়েছে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্সির কোনো সম্পর্ক নেই। ’

তবে এই মতের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট বা মন ঠিক করেননি এমন ভোটাররা একমত নন। জরিপ দেখলেই এই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। এনবিসি নিউজ-ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল পরিচালিত জরিপে দুই অঙ্কের সংখ্যায় এগিয়ে আছেন হিলারি।

রাজনীতিতে নতুন মুখ হওয়ার কারণেই মূলত ভোটারদের মন ছুঁয়ে গেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ রাজনীতিকদের পছন্দও করে না, বিশ্বাসও নয়। সেখানে একজন ধনকুবের সফল ব্যবসায়ী এসে তাঁদের জানিয়েছেন, চাকরির ব্যবস্থা হবে, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ হবে, রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে—এসব প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মুগ্ধ করেছে। ফলে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক কটূক্তি, মেক্সিমো বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার আমলে নিতে চাইছে না অনেকেই।

পেনসিলভানিয়ার কিম হেরোন (৪৪) বলেন, ‘আমরা খুবই উত্তেজিত। বিতর্কে ট্রাম্পের পারফরম্যান্সও তাঁর ভালো লেগেছে। বিশেষ করে হিলারিকে জেলে পাঠানোর হুমকি তাঁকে চমকিত করেছে। একই সঙ্গে ক্লিনটনকে যেভাবে ট্রাম্প আক্রমণ করেছেন তাও ঠিক ছিল। হিলারির স্বামী হিসেবে তিনি হোয়াইট হাউসে গেলে বিষয়টি খুব একটা ভালো হবে না। ’

বেভ রোজ একজন গৃহিণী। তিনি মনে করেন, হিলারি যা করেছেন এরপর তাঁকে আর হোয়াইট হাউসে যেতে দেওয়া যায় না। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য