kalerkantho


ইয়েমেনে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র শুধুই উদ্বিগ্ন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনায় কেবল নিন্দা জানিয়ে ক্ষান্ত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র, বরং নেওয়া হচ্ছে রুশবিরোধী নতুন নতুন পদক্ষেপ। অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলায় বিপুলসংখ্যক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া শুধু সমালোচনা আর উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

দুটি আরব রাষ্ট্রে চলমান হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যায় বিশ্লেষকদের অভিমত, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে রাশিয়ার সঙ্গে ঘোরতর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ওই অঞ্চলে সৌদি আরব হলো পশ্চিমা দেশটির অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মিত্র। ফলে রাশিয়া ও সৌদি আরবের সামরিক হামলার ফলাফল একই হলেও তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। বেসামরিক নাগরিক হত্যায় সৌদি ভূমিকার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারায় রাশিয়ার ভূমিকার জোরালো সমালোচনা করার ধারও হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা এই অভিমত জানিয়েছেন।

 

গত শনিবার ইয়েমেনে এক জানাজার নামাজ চলাকালে প্রতিবেশী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় ১৪০ জনের বেশি নিহত ও কমপক্ষে ৫২০ জন আহত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে তাদের সমর্থন দিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়। এর পরদিন রবিবার যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তাঁর গভীর উদ্বেগের কথা জানান।

শিয়াপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের দমনের নামে এর আগেও বিভিন্ন সময় ইয়েমেনে সৌদি জোটের একই ধরনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কেবল সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

কিন্তু সৌদি সরকারের জন্য তাদের গোয়েন্দা তথ্য, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক সহায়তা অব্যাহত থেকেছে। সৌদি আরবে অস্ত্র সরবরাহের দিক থেকে শক্তিধর পশ্চিমা দেশটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গ্লোবাল অ্যাডভোকেসিবিষয়ক উপপরিচালক ফিলিপ বোলোপিয়নের কাছে কৌতূহলোদ্দীপক মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যেন ওই হামলা একটা খড়কুটোর মতো, যেটা উটের পিঠ ভেঙে দিয়েছে এবং এর পরই তারা জেগে উঠে ইয়েমেন যুদ্ধের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ইয়েমেনে এমন এক সময়ে হামলাটি হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রাশিয়ার বিরুদ্ধে, সিরিয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও সিরীয় শহর আলেপ্পোয় নির্বিচার বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাচ্ছে। ফিলিপের অভিমত, ব্যাপারটা যে ধোপে টিকছে না, সেটা সমালোচক দেশগুলো উপলব্ধি করেছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের উপসাগর ও জ্বালানিবিষয়ক পরিচালক সাইমন হেন্ডারসন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার খানিকটা খেপেছে। তিনি বলেন, ‘দেখুন, খোলাখুলি বলতে গেলে, ঊর্ধ্বতন হুতি নেতাদের যত বেশি সংখ্যায় হত্যা করা সম্ভব, সেটা করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে সৌদি আরব হামলাটা চালিয়েছে। ’

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে সরকার উত্খাত করে বেশ কিছু এলাকার দখল নেয়। পরের বছরই তাদের দমনে দেশটিতে সামরিক হামলা শুরু করে সৌদি জোট। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য