kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হাইতিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

ত্রাণ সরবরাহে মন্থরগতি, ক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হাইতিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হাইতি ‘প্রকৃত দুর্ভিক্ষের’ কবলে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জোসেলারমে প্রাইভার্ত। তিনি জানিয়েছেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি ঠিকমতো সামলাতে না পারলে তিন-চার মাসের মধ্যেই এ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হাইতিতে সড়ক ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং অনাহারে থাকা স্থানীয় লোকজনের বাধার কারণে ত্রাণ সরবরাহ প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ত্রাণ সাহায্য না পেয়ে অনেক মানুষই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে কলেরা রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, হাইতিতে দুর্যোগকবলিত অন্তত ১৪ লাখ লোকের জন্য জরুরি সাহায্য দরকার। তিনি হাইতির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) দেশটিতে ১০ লাখ কলেরা ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে।

হারিকেন ম্যাথিউর আঘাতে হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় তিবুরোন উপদ্বীপ লণ্ডভণ্ড হওয়ার এক সপ্তাহ পরও সাহায্য না পৌঁছানোয় সেখানকার অনেক নাগরিক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অনেকে ত্রাণের আশায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। জাতিসংঘ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি জ্যঁ-লুক পসেঁলেত জানান, হাইতির দক্ষিণ ও পশ্চিম উপদ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, ‘সড়কসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানে ত্রাণ সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে। ’ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও হাইতিতে ত্রাণ সরবরাহের ক্ষেত্রে একই ধরনের জটিলতার কথা উল্লেখ করেছে। হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে ইতিমধ্যে ইউএসএইডের ৪৭ মেট্রিক টন ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন হাইতিতে অন্তত ১৪ লাখ লোকের জন্য জরুরি সাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। তিনি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইতির মানুষের জন্য খুব দ্রুত ও বড় আকারের সাহায্য প্রয়োজন। দেশটির কিছু শহর ও গ্রামের প্রায় সম্পূর্ণ মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। ’

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স হাইতিতে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে নিহত মানুষের সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার মানুষ।

গত বুধবার হাইতির উপকূলে ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে হারিকেন ম্যাথিউর। সেই সঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ঝড় ও ভূমিধসে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি ধসে গেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিহতের মোট সংখ্যা ও ধ্বংসের প্রকৃত চিত্র জানতে কর্মকর্তাদের আরো কিছুদিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর জেরেমির ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।

নিহতদের স্মরণে পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। এরই মধ্যে নিহতদের গণকবর দেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কলেরা ছড়িয়ে পড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই শঙ্কার কারণে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডাব্লিউএইচও গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, হাইতিতে ১০ লাখ কলেরা ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য