kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিয়া ইস্যুতে সম্পর্কে নতুন মোড়

রাশিয়া-তুরস্ক গ্যাস পাইপলাইন চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তুরস্ক ও রাশিয়া সোমবার সাগরের তলদেশ দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দেশ দুটি সিরিয়া সংকট নিয়েও একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।

এই মুহূর্তে সিরিয়ায় রাশিয়া ও তুরস্ক পরস্পর বিপরীত দুটি পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।

প্রায় এক বছর আগে রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান তুরস্ক গুলি করে ভূপাতিত করার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। কিন্তু সম্প্রতি তারা নিজেদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। সোমবার তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন চুক্তির মধ্য দিয়ে সেই স্বাভাবিক সম্পর্কেরই ইঙ্গিত মিলল।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অটোম্যান আমলের একটি প্রাসাদে সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। দুই নেতার আলোচনায় জ্বালানি চুক্তি, বাণিজ্য ও পর্যটন বিষয়ে সমঝোতা, প্রতিরক্ষা ও সিরিয়ার যুদ্ধের প্রসঙ্গ স্থান পায়।

বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘রুশ-তুর্কি সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ একটি দিন গেল আজ। রুশ-তুর্কি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে মিত্রতা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে, এ বিষয়ে পুরো আত্মবিশ্বাস আছে আমার। ’ তিনি আরো জানান, তুরস্কে রুশ নির্মিত একটি পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি দ্রুততর করা হবে।

পুতিন তাঁর বক্তব্যে জানান, তুরস্ক থেকে রাশিয়ায় আমদানি করা কিছু খাদ্যদ্রব্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। তা ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে কাজ করতে তারা দুজন একমত হয়েছেন।

তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন চুক্তির ফলে ইউরোপের জ্বালানি (গ্যাস) বাজারে মস্কোর অবস্থান আরো দৃঢ় হবে এবং রাশিয়ার জ্বালানি ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করার প্রধান পথটি বন্ধ করে দিতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জ্বালানির জন্য রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের চেষ্টা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবং ইইউর বিরোধিতার কারণে বুলগেরিয়া হয়ে দক্ষিণমুখী পাইপলাইন নির্মাণ বাতিল করে রাশিয়া। এর পরপরই তুর্কস্ট্রিম পরিকল্পনা তৈরি হয়।

সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য