kalerkantho


চীনে ভবনধসে নিহত ২২

বাবার শেষ আলিঙ্গন বাঁচিয়ে দিল তিন বছরের শিশুকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাবার শেষ আলিঙ্গন বাঁচিয়ে দিল তিন বছরের শিশুকে

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনজুতে ভবনের নিচে চাপা পড়া এক বাবা তাঁর ছোট্ট মেয়েকে এভাবেই আগলে ধরে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। গতকাল উদ্ধার অভিযান চলাকালে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

চীনের পূর্বাঞ্চলে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি মেয়েশিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাবা ও মাসহ তিন বছরের উ নিক্সি বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়লেও বাবা তাঁর নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে গেছেন মেয়ের জীবন। ছোট্ট মেয়েটিকে বাবা আলিঙ্গন করে রেখেছিলেন। ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনজুতে চারটি ছয়তলা ভবন ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি।

সোমবার ভবনগুলো ধসে পড়ার ১২ ঘণ্টা পর মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও মেয়েটি সামান্য আঘাত পেয়েছে। মৃত বাবা মেয়েটিকে এমনভাবে আলিঙ্গন করে রেখেছিলেন যার ফলে তার ওপর ভারী কিছুর আঘাত লাগেনি। ভবন ধসের সময় বাবা ও মায়ের সঙ্গে নিক্সি তাদের শোয়ার ঘরে ছিল।

জুতার কারখানায় কাজ করা ২৬ বছর বয়সী বাবাকে একটা পুরু সিমেন্টের পিলারের নিচে পাওয়া যায়। বাবা ও মেয়ে থেকে একটু দূরে পাওয়া যায় মায়ের মৃতদেহ। চীনের ইয়ুথ ডেইলি জানিয়েছে, বাবা তাঁর শরীরটা এমনভাবে ব্যবহার করেছিল যাতে মেয়ের ওপর কোনো চাপ না পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় সোমবার শেষ সময়ে উদ্ধারকর্মীরা ইট ও সিমেন্টের ধুলাবালি থেকে ছোট্ট এক শিশুর দেহ উদ্ধার করে আনছে, তার চুলগুলো ধুলায় ধূসরিত এবং খুব সাবধানে তাকে স্ট্রেচারের ওপর রাখছে।

২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে মঙ্গলবার লুচেং জেলার গভর্নমেন্ট সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ছোট্ট শিশুটিসহ মোট ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ব্যাপক বৃষ্টি, নির্মাণকাজে দুর্বল উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি ভবনের বয়স ওই ধসের প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আর কোনো দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ১৯৭০ সালের দিকে তৈরি ধসে পড়া ভবনগুলোর পাশে থাকা অন্য ভবনগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য