kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিতর্কে সত্য-মিথ্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিতর্কে সত্য-মিথ্যা

সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে গত রবিবার সন্ধ্যায় (যুক্তরাষ্ট্র সময়) দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে পরস্পরের সমালোচনা করেছেন, ছুড়েছেন অভিযোগের তীব্র বাণ।

তাঁদের এসব অভিযোগের কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা, তা বরাবরের মতোই যাচাই ও বিশ্লেষণ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ওই সব ইস্যুর কয়েকটি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক, গবেষক ও সম্পাদকদের একটি দলের বিশ্লেষণ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

ওবামাকেয়ার : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি ‘ওবামাকেয়ার’ হিসেবে পরিচিত। ডেমোক্র্যাট দলীয় ওবামার এই নীতি নিয়ে গত কয়েক বছরে অনেক বিতর্ক হয়েছে। রবিবারের প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প বলেন, আসন্ন নির্বাচনে হিলারি জয়ী হলে ওবামাকেয়ারে সমর্থন দেবেন। আর সেটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ওবামাকেয়ারে ভয়ংকর সব বিষয় রয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেছেন, ওবামার স্বাস্থ্যবীমা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে কোনো সুফল আসেনি।

ওবামাকেয়ারের স্বাস্থ্যবীমা সম্পর্কে হিলারি বলেছেন, এতে দুই কোটি মানুষ স্বাস্থ্যবীমার সুযোগ পেয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবীমা হার ৯০ শতাংশ। আগে এমনটা কখনই ছিল না।

সিএনএনের সত্যতা যাচাইকারী দলের মতে, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্রের ন্যাশনাল হেলথ ইন্টারভিউ সার্ভে বলছে, ৯০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্যবীমা রয়েছে। তাই ওবামাকেয়ার নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে হিলারির বক্তব্যে সত্যতা রয়েছে।

হিলারির ই-মেইল : ট্রাম্প বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত সময়ে হিলারি ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল আদান-প্রদান করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করেছেন। হিলারির আদান-প্রদান করা ই-মেইল নিয়ে পরে তদন্ত করে এফবিআই। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ই-মেইলে গোপনীয় তথ্য পাওয়া গেলেও হিলারি যে ‘জেনেশুনে এ কাজ করেছেন’ এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে হিলারিকে জেলে পাঠানোরও হুমকি দেন।

সিএনএনের সত্যতা যাচাই দল মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এফবিআইয়ের হিসেবের সঙ্গে ট্রাম্পের দেওয়া পরিসংখ্যানের বেশির ভাগই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সত্যতা যাচাইকারী দলের মতে, হিলারির কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে ট্রাম্প বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ দিতে পারেন।

ইরাক : ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযান সমর্থন করতেন না। এমনকি ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পক্ষেও তিনি ছিলেন না। হিলারি বলেন, ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ভণিতামূলক।

কিন্তু আসল সত্য হলো, ২০০২ সালে ইরাকে সেনা অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যখন ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়, তখন ট্রাম্প তাতে সমর্থন দিয়েছিলেন। ইরাকে সেনা অভিযানের এক বছর পর ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে কোনো বিরোধিতার কথা বলেননি।

তাই ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নড়বড়ে বলেই মনে করছে সিএনএনের সত্যতা যাচাই দল।

এর বাইরেও ওবামার জন্মস্থান, বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারি, সন্ত্রাসবাদ, বেকারত্ব, বাণিজ্য, ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে দুই প্রার্থীর বক্তব্যে।


মন্তব্য