kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন গবেষণার তথ্য

ইন্দোনেশিয়ার ধোঁয়ায় মারা গেছে লাখেরও বেশি মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইন্দোনেশিয়ার ধোঁয়ায় মারা গেছে লাখেরও বেশি মানুষ

বন-জঙ্গল সাফ করার জন্য লাগানো আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় গত বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক লাখের বেশি লোকের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে। এর মধ্যে ৯০ হাজার মানুষই ওই আগুন লাগানো অঞ্চল ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা ছিল। বাকিরা মারা গেছে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়।

এই ‘হত্যাকারী ধোঁয়ার’ বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণা করেছেন। তাঁদের দেওয়া এই তথ্য নতুন এক জটিলতা তৈরি করেছে। কেননা ইন্দোনেশিয়ার সরকারি ভাষ্যের সঙ্গে মৃতের সংখ্যার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত বছর ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় মাত্র ১৯ জন মারা গেছে।

গ্রিনপিসের ইন্দোনেশিয়ার ফরেস্ট ক্যাম্পেইনার ইউইউন ইন্দ্রাদি বলেন, ‘যদি কোনো কিছুতে পরিবর্তন না আনা হয় তাহলে বছরের পর বছর এই মৃত্যুর হার ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছাবে। ’

ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল ও কাগজ তৈরিতে গাছ লাগানোর জন্য দ্রুত এবং কম খরচে জমি বানাতে জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত সুমাত্রা দ্বীপ এবং বোর্নিউ দ্বীপের ইন্দোনেশিয়ার অংশে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। মৌসুমি বাতাসের কারণে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও এই ধোঁয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়। গত বছরের এই ধোঁয়া ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে এই ধোঁয়া ছিল, এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। অবস্থা এতটাই জটিল হয়ে পড়েছিল যে কূটনৈতিকভাবে এ জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইট থেকে নেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত বছর এই ধোঁয়ার কারণে এক লাখ ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ৯১ হাজার ৬০০ জন, মালয়েশিয়ায় ছয় হাজার ৫০০ জন এবং সিঙ্গাপুরে দুই হাজার ২০০ জন মারা যায়। বোর্নিওর ইন্দোনেশিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা নুরসিয়াম ইব্রাহিম বলেন, ধোঁয়ার কারণে শিশুরা বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ‘বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকা শিশু ও বাচ্চাদের অবস্থা

কতটা ভয়ানক তা আমরা জানি। ’

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য