kalerkantho


উপবাসের ৬৮তম দিনে ঝরে গেল কিশোরী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



উপবাসের ৬৮তম দিনে ঝরে গেল কিশোরী

৬৮ দিন অনশন করে ভারতের হায়দরাবাদে মারা গেছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। জৈন ধর্মের রীতি মেনে চৌমাসের (জুলাই থেকে অক্টোবর) পূর্ণ তিথিতে উপবাসে বসেছিল অষ্টম শ্রেণির মেয়েটি। রীতি অনুযায়ী পুরোপুরি অভুক্ত থাকে আরাধনা নামের মেয়েটি। পানিও পান করেনি। গত সপ্তাহে তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

জৈন ধর্মানুযায়ী এ অনশনকে বলা হয় সান্থারা প্রথা। যার ফলে অন্ন-পানি ত্যাগ করে স্বর্গ লাভের জন্য দেহ প্রস্তুত হয়। আরাধনার মৃত্যুর পর তাকে এত দিন উপবাস কেন করতে দেওয়া হলো—তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছে। শিশুর অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আবেদন জানিয়েছে, ধর্মীয় কারণে কেউ নিজের জীবনকে বিপদে ফেলুক, এ ধরনের কাজ যেন আর কেউ না করে। ধর্মীয় নেতারা যেন এ বিষয়ে নজর দেন।

আরাধনার মৃত্যুর পরে তাকে ‘শিশু তাপসী’ আখ্যা দিয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষ শেষযাত্রায় অংশ নেয়। কিশোরীর মৃত্যুকে সবাই মিলে উদ্যাপন করে।

জানা গেছে, আরাধনার পরিবারের সেকেন্দ্রাবাদে গয়নার ব্যবসা রয়েছে। কেন তারা বাড়ির মেয়েকে অনশনে বসতে দিল, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলে। জবাবে বাড়ির লোকেরা জানায়, এ ধরনের উপাচার অনেকেই করে। জৈন সমাজে তাদের লোকে কদর করে।

তবে এ ধরনের প্রথা সাধারণত বয়স্করা পালন করেন, যাঁরা জীবন উপভোগ করে ফেলেছেন। আরাধনার মতো কিশোরী যার সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল সে কেন এমন কাজ করল—তা বিস্ময়ের বলে জৈন সমাজের একজন মন্তব্য করেছে।

এসব অভিযোগ শুনে আরাধনার পরিবার জানায়, গোটা ঘটনা সবাই জানত। এর আগেও ৪১ দিনের অনশন করেছিল আরাধনা। সেইবার সে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল। এবারের ঘটনাও সবাই জানত। অনশন চলাকালীন শীর্ণ আরাধনাকে বধূরূপে সবাই বরণ করেছে, রথে বসিয়ে ছবি তুলেছে। এমনকি তেলঙ্গানার মন্ত্রী তা নিয়ে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এবং স্থানীয় বিধায়ক বিবি পাতিল আরাধনার সান্থারা হওয়া নিয়ে অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছেন। সবার চোখের সামনেই মেয়েটি ধর্মের বলি হয়ে গেল। সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া


মন্তব্য