kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবার শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা গ্রিস দ্বীপবাসীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আবার শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা গ্রিস দ্বীপবাসীর

তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শরণার্থীবিষয়ক চুক্তি গত মার্চের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সেটা বোধ হয় আর টিকবে না—এমন আশঙ্কা গ্রিসের লেসবোস দ্বীপের বাসিন্দাদের।

সিরিয়ায় ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ও পরের বছর রাশিয়ার জঙ্গিবিরোধী বিমান হামলা পুরোদমে শুরু হওয়ার পর তুরস্ক হয়ে বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে রওনা হওয়া অভিবাসী ও শরণার্থীদের হার অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। দিনে ছয় হাজার মানুষের সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তুরস্ক ও ইইউর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দিনে বড়জোর কয়েক ডজন মানুষ সাগর পাড়ি দেয়। কিন্তু পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন লেসবোস দ্বীপের বাসিন্দা থানাসিস মারমারিনোস।

৬৩ বছর বয়সী মারমারিনোসের হিসাবে পাঁচ মাস ধরে তাঁকে মাঝসাগর থেকে কোনো বিপদগ্রস্ত শরণার্থী বা অভিবাসীকে উদ্ধার করতে হয়নি। চুক্তির আগের সময়টা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন লোকজনকে ডুবতে দেখছিলাম, তখন যা করা উচিত ছিল, সেটাই আমরা করেছি, এই তো। আমরা তাদের বাঁচিয়েছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। ’ মারমারিনোস জানান, ৭৫টি নৌকায় চার হাজারের বেশি লোককে উদ্ধারে তিনি সহায়তা করেছেন। এমন মানবিকতার জন্য মারমারিনোসসহ দ্বীপের তিনজনকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটা না পেলেও আফসোস নেই তাঁদের। বরং সেই সময় বিপদগ্রস্তদের সহায়তা করতে পারায় তাঁরা সন্তুষ্ট এবং তাঁদের হৃদয় তৃপ্ত, বলেন দ্বীপের আরেক বাসিন্দা এমিলিয়া কামভাইসি।

কিন্তু সিরিয়ায় এখনো বোমা পড়ছে। এদিকে তুরস্ক চুক্তি ভঙ্গের হুমকি দিয়ে চলেছে। তুরস্ক সরকারের দাবি, ইইউ ভিসামুক্ত চলাচলের সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এসব পরিপ্রেক্ষিতে আবার নৌকাবোঝাই মানুষ পারাপার শুরু হওয়ার আশঙ্কায় ভীত হওয়া সত্ত্বেও ৮৪ বছরের বৃদ্ধা কামভাইসি বলেন, ‘আবার যদি মানুষের ঢল শুরু হয়, তবে তাদের গ্রহণ করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য