kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ১৫ বছর

বোমা মৃত্যু বেকারত্ব দুর্নীতি আফগানিস্তানের নিত্যসঙ্গী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ১৫ বছর পুরো হয়েছে গতকাল শুক্রবার। এত বছর পর খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীই বলছে, আফগানিস্তানে এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

দেশটিতে তাদের সামরিক ও আর্থিক শক্তি ব্যয়ের কোনো ইতিবাচক ফলাফল যে পাওয়া যায়নি, অন্যান্য খতিয়ানেও সেটা স্পষ্ট।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে আল-কায়েদা জঙ্গিদের সন্ত্রাসী হামলায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। আল-কায়েদা নিধনে এবং একই সঙ্গে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উত্খাতে একই বছরের ৭ অক্টোবর দেশটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আট হাজার ৪০০ সেনা এখনো আফগানিস্তানে রয়েছে। অথচ জঙ্গিরা আজও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের এ পরিস্থিতিকে অচলাবস্থা অ্যাখ্যা দিয়েছে।

আফগান নাগরিক হতাহত : আফগানিস্তানে এখনো প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। চলতি বছর নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা এক হাজার ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর নিহত হয় পাঁচ হাজার ১০০। এ ছাড়া গত বছর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে। বিদেশি সেনা ও সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ, বোমা হামলা ও মাইনে এসব মৃত্যু ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম আট বছরে হতাহতের কোনো হিসাবই নেই। ২০০৯ সাল থেকে জাতিসংঘের সংগৃহীত তথ্য মতে, এ পর্যন্ত ২৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৪১ হাজার।

হতাহত বিদেশি সেনা : যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোর সেনা হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৪ সালের হিসাবে দেখা যায়, সব মিলিয়ে ন্যাটোর সাড়ে তিন হাজার সেনা নিহত ও ৩৩ হাজার আহত হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ক্ষতির পরিমাণটাই বেশি। তাদের হতাহতের সংখ্যা যথাক্রমে দুই হাজার ৪০০ ও ২০ হাজার। এসব হিসাবে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যাটা ধরাই হয়নি।

আর্থিক অপচয় : ২০০১ সাল থেকে এ যাবৎ আফগানিস্তানে ১১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, আফগানিস্তান পুনর্গঠনে এ অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হলেও ঘুরেফিরে তা যুক্তরাষ্ট্রের পকেটেই গেছে। কেননা খরচটা সেনাবাহিনীর পেছনেই হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, এই ১৫ বছরে আফগানিস্তানে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয়।

বাস্তুহারার দল আর বেকারত্ব : অ্যামনেস্টির হিসাবে বাস্তুহারা হয়ে আফগানিস্তানের এক জায়গা থেকে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছে, এ রকম মানুষের সংখ্যা এখনো ১২ লাখ। রাজধানীসহ বিভিন্ন বড় শহরের অস্থায়ী শিবিরে ৭০ শতাংশ বাস্তুহারার বসবাস। এ ছাড়া পাকিস্তানে ২৪ লাখ এবং ইরানে আরো প্রায় ১০ লাখ আফগান শরণার্থী রয়েছে। বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য