kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাতে আর এক মাস

অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক এক মাস বাকি। আগামী ৮ নভেম্বর নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন। আবার রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাবনাও কম নয়। ৩০ দিন সময় হাতে রেখে এখনই নিশ্চিতভাবে কারো প্রসঙ্গেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

জনমত জরিপগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ট্রাম্পের চেয়ে দুই কদম এগিয়ে আছেন হিলারি। ঝুলন্ত রাজ্যগুলোতে অর্থাৎ কলোরাডো, ফ্লোরিডা, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিনেও বেশ খানিকটা এগিয়ে আছেন তিনি। তবে আইওয়া ও ওহাইয়োতে অবশ্য কিছুটা এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে এই রাজ্য দুটি ছাড়াও হিলারির পক্ষে ট্রাম্পকে টপকানো কঠিন হবে না। তাই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তরসূরি হিসেবে ঢুকতে গেলে সঠিক পথে আরেকটু জোরে ছুটতে হবে ট্রাম্পকে।

প্রথম টিভি বিতর্কের আগ পর্যন্ত জনমত জরিপগুলোর প্রবণতা ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকে ছিল। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রবার্ট শাপিরো বলেন, ‘বিতর্কের পর রিপাবলিকান প্রার্থীর রমরমা অবস্থানটিতে পরিবর্তন আসে। ’ এরপর আর ডুবন্ত অবস্থান থেকে পরিবর্তন আনতে পারেননি তিনি। বরং তাঁর বিতর্ক-পরবর্তী তৎপরতা তাঁকে আরো ডুবিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক বিশ্ব সুন্দরীর স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর কটূক্তি, রাত ৩টার সময় টুইট করা—তাঁকে যতটা নামিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিও ঠিক ততখানি নামাতে পারেননি তাঁকে। শাপিরো বলেন, ‘রাত ৩টার সময় টুইট করাকে মোটেই প্রেসিডেনিসয়াল বলা যায় না। বিষয়টি জনমত জরিপকে হিলারির দিকে প্রবাহিত করেছে। ’

এর সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়ে লোকসানের কারণে ১৮ বছর আয়কর রেয়াত পাওয়ার বিষয়টি তো ছিলই। ট্রাম্প নিজে বা তাঁর অনুসারীরা বিষয়টিকে যতই ‘বুদ্ধিবান’ বা ‘জিনিয়াস’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না কেন, মধ্যবিত্ত ভোটাররা খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। ট্রাম্পের বিতর্ক-পূর্ববর্তী ট্র্যাক রেকর্ডও খুব ভালো নয়। তিনি মেক্সিকোর অভিবাসীদের ‘ধর্ষক’ বলেছিলেন। মুসলমানদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

এসব সংকট থেকে অবশ্য হিলারি মুক্ত। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য যে ফার্স্টলেডি, সিনেটর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ৩০ বছর ধরে মানুষের চোখের সামনে হিলারি। এর পরও তিনি ঠিক জনপ্রিয় নন। এর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নানা তৎপরতা, বিশেষ করে ব্যক্তিগতভাবে সরকারি ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়টি তাঁকে সাধারণ ভোটারদের চোখে আরো অজনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে প্রথম বিতর্কে তাঁর উপস্থিতি ট্রাম্পের তুলনায় আশাব্যঞ্জক ছিল। এখন ৮ নভেম্বর ব্যালট কার পক্ষে কথা বলবে তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য