kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সামরিক আমলে চুরি যাওয়া শিশু

৪০ বছর পর দেখা মিলছে ভাইয়ের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সামরিক শাসনামলে ‘চুরি যাওয়া’ এক শিশুকে খুঁজে পেয়েছেন তাঁর ভাই । ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ার পর ভাইকে কাছে পেতে যাচ্ছেন বর্তমানে শিক্ষকতায় পেশায় থাকা ৪২ বছর বয়সী রামিরো মেনা।

তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের কখনো দেখা হয়নি। তাঁর জন্য আমাদের ৪০ বছরের ভালোবাসা জমে আছে। ’

আর্জেন্টিনায় সামরিক শাসনামলে বামপন্থীদের আন্দোলন দমাতে রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করা হতো। ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে সামরিক শাসকের এজেন্টরা তল্লাশি চালিয়ে মেনার বাবা ডোমিনিগো মেনা ও মা আনা মারিয়া লাঞ্জিলোত্তোকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। সে সময় মেনার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। মেনার মা-বাবা ছিলেন রেভল্যুশনারি ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী। দলটি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেছিল।

মা-বাবা সরকারের হাতে আটক হওয়ায় মেনা চাচাদের সংসারে বেড়ে ওঠেন। আটক হওয়ার সময় মেনার মা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সামরিক শাসকদের হাতে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল অথবা তাদের নিখোঁজ করে ফেলা হয়েছিল। তবে ভাইয়ের আশা কখনো ছাড়েননি মেনা। অবশেষে মানবাধিকার সংস্থা ‘গ্র্যান্ডামাদার্স অব দ্য প্লাজা ডি মায়ো’র মাধ্যমে ভাইকে খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। এই সংস্থা সামরিক শাসনামলে চুরি যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে তারা সে সময়ের ১২০টি শিশুকে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে। মেনার ভাই হবেন সংস্থাটির ১২১তম শিশু, যাকে তারা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে।

বুয়েনস এইরেসে মানবাধিকার সংস্থাটির প্রধান ভবনে ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকা মেনা বলেন, ‘আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা তোমাকে আমাদের বুকে পেতে চাই। ’ ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন মেনার দাদা ও দাদি। মেনার ভাইয়ের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মেনার এই ভাই বুয়েনস এইরেসে ডাক্তারি পেশায় কর্মরত আছেন। এ সম্পর্কে মেনা বলেন, ‘আমরা তার সম্পর্কে খুবই কম জানি। সে যদি না চায় তাহলে আমরা তার পরিচয় প্রকাশ করব না। তবে আমরা জানি তার দুটি সন্তান আছে এবং আমার মতো তার মাথায় চুল নেই, তবে দাড়ি আছে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য