kalerkantho


বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বেছে বেছে শিক্ষিতদের নেয় আইএস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যদের বেশির ভাগই শিক্ষিত—বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের অনুসন্ধানে আরো স্পষ্ট হয়েছে, স্বল্প থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিতদের চরমপন্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কেবল দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দায়ী নয়। তাই অর্থনৈতিকভাবে তো বটেই, সামাজিকভাবেও উগ্রপন্থার বিস্তার মোকাবিলায় কাজ করার কথা বলছে বিশ্বব্যাংক।

‘সহিংস চরমপন্থা ঠেকাতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনটি গত বুধবার বিশ্বব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। আইএসের ডাটাবেইস থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বিদেশি সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে জঙ্গিগোষ্ঠীটি দরিদ্র বা কম শিক্ষিতদের নেয় না। সদস্য সংগ্রহের জন্য আইএস কী ধরনের যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং চরমপন্থার মোকাবিলায় কী ধরনের আর্থাসামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার, সেটাই এ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু।

প্রতিবেদনে আইএসে অন্তর্ভুক্ত ৩৩১ সদস্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়। দেখা গেছে, তাদের এক-চতুর্থাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছে। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি, এমন সদস্যদের সংখ্যা মাত্র ১৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশের নাগরিক আইএসে যোগ দিয়েছে, সেসব দেশের গড়পড়তা শিক্ষিতদের চেয়ে তারা বেশি শিক্ষিত। কেবল পূর্ব ইউরোপ থেকে আগত আইএসে যোগদানকারীরা ওই অঞ্চলের গড়পড়তা শিক্ষিতদের চেয়ে কম শিক্ষিত।

শিক্ষিত ব্যক্তিরা আইএসের প্রশাসনিক শাখা তো বটেই, এমনকি আত্মঘাতী বাহিনীতেও স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছে। আইএসে যোগদানকারী এসব ব্যক্তির মধ্যে ৩০ শতাংশ তাদের কাঙ্ক্ষিত পদ চেয়ে নিয়েছে। জানা গেছে, প্রতি ৯ জনে একজন আত্মঘাতী শাখায় যোগ দিয়েছে এবং তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আইএসের প্রশাসনে যোগদানকারীদের সমান। আত্মঘাতী শাখায় যোগদানকারীরা জানিয়েছে, নিজ দেশে তাদের চাকরি-বাকরি ছিল না। কেউ কেউ অবশ্য আইএসে যোগ দেওয়ার আগে সেনাবাহিনীতে ছিল বলে জানিয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের মৌলবাদী মনোভাব কেন সহিংস চরমপন্থায় রূপ নিচ্ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য কিংবা বঞ্চনা এর মূলে কাজ করছে না, সেটা স্পষ্ট। আর্থিক দুরবস্থার কারণে নয়, বরং কর্মবিচ্যুত হয়ে থাকার কারণে হয়তো তারা এ পথ বেছে নিয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য